Friday, September 29বাংলারবার্তা২১-banglarbarta21
Shadow

গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীর নির্যাতনে স্ত্রীর মৃত্যু হত্যা মামলায় কারাগারে

গণপূর্ত বিভাগে প্রকৌশলী সাখাওয়াতের নির্যাতনে তার স্ত্রী ফাতেমা নাসরিন (৪৫) মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নির্যাতনের পর প্রতিবেশিরা তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তার অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে ঢাকার আগারগাঁওয়ের নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। স্বামী র্কতৃক তিনি নির্যাতিত হন গত ৮ মার্চ। ওইদিনই তাঁর স্বামী প্রকৌশলী মির্জা সাখাওয়াত হোসেনকে (৪৯) গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

েআরো পড়ুন : আজ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র লাগবে ট্রেনের টিকিট কাটতে কমবে টিকিট কালো বাজারী

নিহত ফাতেমার মরদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য নেয়া হয়। এরপর তার লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে রওনা হন স্বজনরা।

এদিকে নিহত প্রকৌশলীর স্ত্রী ফাতেমার স্বজনরা জানান, ফাতেমা-সাখাওয়াতের সংসার ১৯ বছরের। ১৭ বছরের এক কন্যা রয়েছে তাঁদের। দীর্ঘদিন ধরে যৌতুক হিসেবে এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন সাখাওয়াত। এ টাকা না দেওয়ায় প্রায়ই ফাতেমাকে শারীরিক নির্যাতন করতেন। সাখাওয়াতের গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড়ের উত্তর মিঠাপুকুরে। তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের হুমায়ুন রোডে থাকতেন। চাকরি করেন ঢাকায় গণপূর্ত বিভাগে। গত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে স্ত্রীকে নিয়ে পঞ্চগড়ে যান সাখাওয়াত। সেখানেও তাঁকে মারধর করেন। এ ঘটনায় ১০ জানুয়ারি পঞ্চগড় সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হন সাখাওয়াত। এর পরই ফাতেমা ঢাকার বাসায় চলে আসেন। সাখাওয়াত জামিনে বের হয়ে আসেন ঢাকায় এবং আবারও নির্যাতন করেন।

আরো পড়ুন: দৃষ্টিনন্দন ও অত্যাধুনিক আট লেন পূর্বাচল সড়কটির উপর বসবে মেট্টোরেলের খুটি ভাঙ্গতে হবে মূল সড়ক ক্ষতি হতে পারে কয়েকশ কোটি টাকা

নিহত ফাতেমার বোন আরজিনা বেগম বলেন, গত ৮ মার্চ বিকেলে হুমায়ুন রোডের বাসায় ফাতেমাকে বেধড়ক মারধর করেন সাখাওয়াত। মসলা বাটা কাঠের বাটলা নিয়ে মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করা হয়। বঁটি দিয়ে গলা কেটে হত্যাচেষ্টার সময় তাঁদের মেয়ে ও ফুফাতো বোন বঁটি কেড়ে নেন। খবর পেয়ে একই ভবনের অন্য ফ্ল্যাটে বাস করা তাঁদের ছোট ভাই সাখাওয়াতের বাসায় যান। ফাতেমাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, তাঁর মাথার পেছনের হাড় ভেঙে গেছে। তাঁকে নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ওইদিন থেকেই নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শুক্রবার রাত ১টার দিকে ফাতেমা মার যান।

আরো পড়ুন : চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোসলেম উদ্দিন আহমদ আর নেই

স্বামীর অমানুবিক নির্যাতনের পর গত ৮ মার্চ যখন ফাতেমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয় তখনই মোহাম্মদপুর থানায় খবর দেন স্বজনরা। যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগে ওইদিনই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ওই রাতেই বোন আরজিনা বাদী হয়ে সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। ওই মামলায় তিনি কারাগারে আছেন।

এদিকে মায়ের মৃত্যু ও বাবা কারাগারে থাকায় তাদের একমাত্র মেয়েটি বাকহীন হয়ে পড়েছে। সে এখন তার খালার হেফাজতে আছেন বলে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে জানা গেছে।

মোহাম্মদপুর থানায় খবর নিতে গেলে থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, স্বামীর আঘাতের কারণে ফাতেমার মৃত্যু হয়েছে। মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *