Saturday, May 9বাংলারবার্তা ২১-banglarbarta21
Shadow

রংপুরে শোকের ছায়া এরশাদের মৃত্যুতে

বার্তা প্রতিনিধি: বাংলাদেশের স্থপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে রংপুরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দলের চেয়ারম্যানকে হারিয়ে শোকাহত দলীয় নেতাকর্মীরা, রংপুরের সাধারণ মানুষ।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

এই নেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা-ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা সেন্ট্রাল রোডস্থ জাতীয় পার্টির দলীয় কার্যালয়ে আসতে শুরু করেন। প্রিয় নেতাকে বিদায়ে তাদের অশ্রুসিক্ত নয়ন।

এরশাদের মৃতুতে শোক প্রকাশ করে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। রংপুর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে গোটা নগরজুড়ে কালো পতাকা লাগানো, কালো ব্যাজ ধারণ, নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মাইকে কোরআন তেলাওয়াত করা হয়।

মমিনপুর ইউনিয়নের এরশাদ ভক্ত আমিনুল ইসলাম (৪২) বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদকে ছাড়া আমরা কিছ্ইু বুঝি না। তিনি যাকে ভোট দিতে বলেছিলেন, আমরা তাকেই ভোট দিয়ে বারবার নির্বাচিত করেছি। তিনি রংপুরের ছেলে হয়ে দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন, এটা আমাদের জন্য গৌরবের। আমরা তাকে সম্মান করেছি। এমন নেতা আর জন্মাবে না। রাজনীতির অঙ্গনে আমরা আজ একজন অভিভাবক হারালাম।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এরশাদ আমাদের সন্তানের মত দেখতেন। তিনি সুষ্ঠু ধারার রাজনীতির মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রেখেছিলেন। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনীতিতে যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে তা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।

তিনি বলেন, একটি সুষ্ঠু ধারার রাজনৈতিক দল হিসেবে জাতীয় পার্টিকে উনি সৃষ্টি করেছেন। আমরা কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা দলটিকে যথাযথভাবে চালিয়ে যাবো এবং উনার যে স্বপ্নগুলো রয়ে গেছে তা বাস্তবায়ন করবো।

মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির বলেন, জাপা চেয়ারম্যানের মৃত্যুতে আজ যেন বাবা হারানোর শোক আমার মধ্যে বিরাজ করছে। তিনি রংপুরসহ সারা বাংলাদেশের মানুষের অভিভাবক ছিলেন।

এদিকে এরশাদের মৃত্যু ও সমাধিকে কেন্দ্র করে রোববার সকালে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। সেখানে তারা রংপুরের পল্লীনিবাসে এরশাদের সমাধিস্থল করার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির রংপুর মহানগর সভাপতি সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, রংপুরের সন্তানকে রংপুরে শায়িত করার জন্য সেজন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সহধর্মিনীর কাছে দাবি জনাচ্ছি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বাদ জোহর হেলিকপ্টারযোগে জাপা চেয়ারম্যান এরশাদের মরদেহ নেওয়া হবে রংপুরে। কালেক্টর ঈদগাহ্ মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে জানাজার নামাজে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের জন্য মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এরশাদের মৃত্যুতে রংপুরের বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন। তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোক প্রকাশ করেন, বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ জাপা মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সফি, সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল, জাসদের মহানগর সভাপতি গৌতম রায়, সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ, বাংলার চোখ সাংস্কৃতিক সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তানবীর হোসেন আশরাফী প্রমুখ।

উল্লেখ্য, রোববার সকাল পৌনে ৮টায় ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গত ১০ দিন ধরে এই হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি।

গত ৪ জুলাই থেকে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন এরশাদ। তিনি রক্তের রোগ মাইলোডিসপ্লাস্টিক সিনড্রোমে ভুগছিলেন। তার আগে গত ২২ জুন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সিএমএইচে নেওয়া হয়।
সূত্র: সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *