
বার্তা প্রতিনিধি: এবার এক ভুয়া নারী ম্যাজিষ্টেটকে তাড়া করে ব্যাবসায়ীরা। গতকাল চট্টগ্রামনগরীর কর্ণেলহাট এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করে এক ব্যবসায়ীকে। তার কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়ার সময় ব্যাবসায়ীদের সন্দেহ হলে জনতা তাড়া করলে সে পালিয়ে যায়। কিন্তু এই ভুয়া নারী ম্যাজিস্ট্রেট এখনো পুলিশ ধরতে পারেনী। বুধবার নগরীর আকবর শাহ থানাধীন কর্নেলহাট এলাকায় একটি দোকানে ম্যাজিস্ট্রেট সেজে অভিযান পরিচালনা করেন পারভীন আক্তার নামে এক প্রতারক মহিলা।
পরে ব্যাবসায়ীরা পারভীনের স্বামী মিজানসহ দু’জনকে ধরে পুলিশের কাছে তুলে দেন। ওইসময় পারভীন গাড়ির ভেতরে থাকায় জনতার ভিড়ে সে ঘটনাস্থল থেকে সে পালিয়ে যায়।
পুলিশ যাদের গ্রেপতার করেন তারা হলেন ভুঁয়া ম্যাজিষ্টেটের স্বামী সৈয়দ মিজান উল্লাহ (৩৫) ও সাংবাদিক ফারদিন আহমেদ (২৪)। মিজান সাতকানিয়ার সমরকান্দির ফরিদুল আলমের ছেলে। ফারদিন কিশোরগঞ্জের গৌরাঙ্গপাড়ার রফিক উদ্দিনের ছেলে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আকবর শাহ থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট পারভীন আক্তারকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাকে ধরতে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। আকবর শাহ থানা অসি জানান পারভীনসহ চক্রটির বিরুদ্ধে সাতকানিয়া, লোহাগাড়াসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানান।
পুলিশের তথ্যে জানা গেছে, এর আগে গত বছর রাঙ্গুনিয়া থানাধীন রানিরহাট বাজারে একই অপরাধে স্থানীয়রা তাদের আটক করে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মুচলেকা দিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, একটি গাড়িতে চড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ও সাংবাদিক পরিচয়ে ওই এলাকায় একটি বেকারি দোকানে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করে ভূয়া ভ্রাম্যমাণ আদালত। সে ঘটনায় ভূয়া ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পারভীন আক্তার ও তার স্বামী সৈয়দ মিজান উল্লাহ জড়িত ছিলো। এ সময় তাদের গাড়ির সামনে চ্যানেল আজাদী নামে একটি স্টিকার লাগানো ছিল। এইসব প্রতারকের মাধ্যমে অনেক ব্যবসায়ীরা ঠকছেন বলে অভিযোগ উঠে। ব্যাবসায়ীদের দাবী এদের ধরে আইনের আওতায় না আনা হলে প্রতারকদের প্রতরনা আরো বেড়ে যাবে। আকবর শাহ থানার অসি মো: জসিম বলেন আমরা খুব অল্প সময়েই ভুঁয়া ম্যাজিষ্টেট পারভীনকে ধরতে সক্ষম হবো এবং তাদের সাথে জড়িত অন্যদেরও ধরে আইনের আওতায় আনব।

