Saturday, May 9বাংলারবার্তা ২১-banglarbarta21
Shadow

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য এখন ঢেউয়ের তিন স্তরের পর্যটকদের আকর্ষন বাড়ছে

বার্তা প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম সিবিচ এ সাগরের ঢেউয়ের আদলে তৈরি করা হচ্ছে পতেঙ্গার সমুদ্রপাড়ের ডিজাইন। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আব্দুচ ছালাম এই কথা জানান। সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন পতেঙ্গা সৈকতের পাড়ে লিংক রোড ও সৌন্দর্যবর্ধনে সিডিএ যে প্রকল্প হাতে নিয়েছে তার ডিজাইন তৈরি করা হয়েছে সাগরের ঢেউয়ের আদলে। সমুদ্রের ঢেউ যেমন একবার ফুলে উঠে আবার মিলিয়ে যায় ঠিক তেমনি ঢেউয়ের তিন স্তরের আদলে তৈরি করা হচ্ছে পতেঙ্গার সমুদ্রপাড়। যেখানে সৈকতের ঠিক পাড়েই তৈরি করা হয়েছে ওয়াকওয়ে, তার একটু উপরে লিংক রোড ও তার সৌন্দর্য বর্ধন।
আজ রবিবার পতেঙ্গার সমুদ্রপাড়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ ও কর্ণফুলী নদীর টানেলের তলদেশের মূল খনন কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর সেখানে এক সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে গতকাল শনিবার সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকল্প দুটির নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন। সিডিএ চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য ব্রিটিশ আমল থেকে বহু ত্যাগ করে গেছেন পতেঙ্গা ও হালিশহর এলাকার বাসিন্দারা। সরকার যখনই তাদের কাছে উন্নয়নের স্বার্থে কিছু চেয়েছে তখনই তারা বিনা লড়াইয়ে সব কিছু দিয়ে গেছে। গেলো সপ্তাহেও লিংক রোডের জন্য পতেঙ্গাবাসীর ৩ হাজার বসতঘর উচ্ছেদ করেছে সিডিএ। তবে এজন্য সাগরপাড়ে প্রায় ১৩ একর খালি জায়গায় তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করছে সিডিএ। শুধু বসত ভিটা নয়, পতেঙ্গার উন্নয়নের স্বার্থে সৈকতের পাড়ে গড়ে ওঠা ১৬০টি ভ্রাম্যমাণ দোকানও সরিয়ে নিয়েছে তারা। পতেঙ্গাবাসীর এই ত্যাগকে সুখে পরিণত করতে একের পর এক উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ করেছে সিডিএ। সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, আগামীকাল (আজ রবিবার) এই পতেঙ্গাতেই উদ্বোধন হচ্ছে চট্টগ্রামবাসীর দুটি স্বপ্নের প্রকল্প। উদ্বোধন হতে যাওয়া কর্ণফুলী টানেল এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প দুটি শুধু চট্টগ্রাম নয় পুরো দেশের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। চট্টগ্রাম হবে সারা বাংলাদেশের ইকোনমিক ফার্ম। যা বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। এছাড়া নগরীর লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি নির্মাণ হবে চার লেইনে। যা যানজট হ্রাস করার পাশাপাশি যাতায়াত ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনবে।
এসময় উপস্থিত থাকা সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী হাসান বিন শামস সিডিএ’র চলমান প্রকল্পগুলো নিয়ে সাংবাদিকদের জানান, ২ হাজার পাঁচশ কোটি টাকা ব্যয়ে পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত তৈরি করা হচ্ছে ১৭ কি.মি দৈর্ঘের সিটি আউটার রিং রোড। যেখানে জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ৩০ ফুট উঁচু উপকুল রক্ষা বাঁধের ওপরে ১০০ ফুট চওড়া রাস্তা নির্মাণের কাজসহ বাঁধে ১১টি শক্তিশালী স্লুইজ গেট ও ওয়েব-প্রটেকশন ওয়াল তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া সড়কটির সাথে মূল শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্বিঘœ করার লক্ষ্যে পতেঙ্গা র‌্যাব-৭ রোড, পোর্ট টোল রোড এবং সাগরিকা রোডের সাথে ফিডার রোডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রত্যেকটি ফিডার রোডের মাথায় বাংলাদেশের প্রথম ডাবল রাউন্ডঅ্যাবাউট ব্রিজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এ প্রকল্পের ৮৫ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ করা হয়েছে। আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ হবে।
পতেঙ্গা সৈকত নিয়ে তিনি বলেন, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে বিশ্ব মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সমুদ্রপাড় জুড়ে তৈরি করা হয়েছে ৫ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে। এ প্রকল্পে বিচ এলাকায় বাচ্চা ও বড়দের জন্য থাকবে বিভিন্ন রাইড ও ক্যাবল কারের ব্যবস্থা। দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য সৈকতে বসানো হচ্ছে ছোট ছোট চেয়ার। সৌন্দর্য বর্ধনে বসানো হয়েছে ফুলের বাগান। এছাড়া পর্যায়ক্রমে ফাইভস্টার হোটেল, কনভেনশন হল, শপিং মলসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবধিা থাকবে পতেঙ্গা সৈকতের পাড় জুড়ে।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিষয়ে সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী হাসান বিন শামস জানান, ৩২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। ১৭ কিলোমিটার লম্বা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটিকে তিনটি পৃথক ভাগে বিভক্ত করে নির্মাণ করা হবে। এরমধ্যে শুরুতে বন্দর-ইপিজেড অংশ, এরপর লালখান বাজার থেকে বারিক বিল্ডিং অংশ এবং সর্বশেষ সিমেন্ট ক্রসিং থেকে পতেঙ্গা অংশ নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স রেনকিন। সিডিএর তত্তাবধানে পতেঙ্গ সমুদ্র সৈকতের এই সুন্দর্য ইতিমধ্যেই প্রর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষন করছে।
সূত্র: পূর্বকোন

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *