
বার্তা প্রতিনিধি: বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরীসহ ২৪ জনের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের ৩০টি মাদ্রাসার ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে। গত ৩১ মার্চ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে সব ব্যাংকে এ চিঠি দেওয়া হয়।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে অতীতে বা বর্তমানে কোনো অ্যাকাউন্ট পরিচালিত হলে যাবতীয় তথ্য বিএফআইইউকে জানাতে হবে। এ ক্ষেত্রে হিসাব খোলার ফর্ম, কেওয়াইসি, শুরু থেকে হালনাগাদ লেনদেন বিবরণীসহ যাবতীয় তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। হেফাজত নেতাদের এবং এসব মাদ্রাসার অর্থের উৎস খতিয়ে দেখতে তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
যেসব ব্যাক্তিদের লেনদেন বিবরণী চাওয়া হয়েছে তাদের তালিকায় রয়েছেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী, মহাসচিব প্রয়াত নূর হুসাইন কাসেমী, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা ইসলামী নূরপুরী, মহাসচিব মুহাম্মদ মামুনুল হক, পীর চরমোনাই ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম, মহাসচিব সৈয়দ ফয়জুল করীম, মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, আল হাইআতুল উলয়াও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সভাপতি মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ ইমাম ও মুসল্লি ঐক্য পরিষদের (ডেমরা) সদস্য সচিব মাওলানা মাহমুদুল হাসান সিরাজী, কদমতলীর মাওলানা আব্দুল আলিম সাইফি, শ্যামপুরের মাওলানা আব্দুল হক, হেফাজতের সহসভাপতি মুহাম্মদ মাহফুজুল হক ও অর্থ সম্পাদক মুফতি মুরি হোসাইন কাসেমী।
উপরোক্ত ব্যাক্তিরা ছাড়াও আরো যাদের ব্যাংক হিসাব চাওয়া হয়েছে তার হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দারুল আরকাম মাদ্রাসার পরিচালক সাজিদুর রাহমান, একই জেলার জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি মোবারক উল্লাহ, এর শিক্ষা সচিব আশেক এলাহী, ছাত্র মাওলানা মো. জিয়াউদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইসলামপুর মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মো. বোরহান উদ্দিন কাশেমী, সৈয়দুন্নেছা মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা হাফেজ ইদ্রিস, অষ্টগ্রাম বাজার মাদ্রাসার মাওলানা বোরহান উদ্দিন, আশুগঞ্জের বেড়তলা মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ জোবায়ের আহাম্মদ আনসারী, সরাইল উচালিয়া মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মো. জহিরুল ইসলাম, দারমা মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মেরাজুল হক কাশেমী ও নাটাই দক্ষিণ বিরাসার মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মো. আবু তাহের।
আর প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে হিসাব চাওয়া মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে রয়েছে, হাটহাজারীর জামেয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা (বড় মাদ্রাসা), জামিয়া ইসলামিয়া হামিউস সুন্নাহ, জামিয়া ইসলামিয়া কস্ফাসেমুল উলুম, জামিয়া হামিদিয়া নাছেরুল ইসলাম, মাদ্রাসা মাহমুদিয়া, মদিনাতুল উলুম, ফটিকছড়ির বাবুনগর আজিজুল উলুম মাদ্রাসা, আল-জামিয়াতুল কোরআনিয়া তালিমুদ্দিন হেফজখানা ও এতিমখানা, নাজিরহাট আল জামেয়াতুল আরাবিয়া নাসিরুল ইসলাম মাদ্রাসা, জাফতনগর হাফেজুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানা, তালীমুল কুরআন বালক-বালিকা মাদ্রাসা ও এতিমখানা, চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসা, হাফেজিয়া তালীমুল কোরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানা, আশিয়া এমদাদুল উলুম মাদ্রাসা হেফজখানা ও এতিমখানা, ভুজপুরের উত্তর বারমাসিয়া হাফেজুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা, দাতমারা তালিমুল কোরআন ইসলামিয়া মাদ্রাসা, আল জামিয়া ইসলামিয়া এমদাদুল ইসলাম মাদ্রাসা, আল মাহমুদ ইসলামিয়া বালক-বালিকা মাদ্রাসা, আল মাদ্রাসাতুল ইসলামিয়া আরাবিয়া হেফজখানা ও এতিমখানা। নারায়ণগঞ্জের সানারপাড় জামিয়াতুল আবরার হাফিজিয়া মাদ্রাসা, সিদ্ধিরগঞ্জের মা. হাদুশ শাইখ ইদ্রিম আল ইসলামী, আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম, আশরাফিয়া মহিলা মাদ্রাসা, আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া নূরুল কোরআন, আব্দুল আলী দারুস সালাম হিফজুল কোরআন মাদ্রাসা, ইফয়জুল উলুম মুহউচ্ছন্নাহ আরাবিয়্যাহ, ভূঁইয়াপাড়া জামিয়া মুহাম্মদীয়া মাদ্রাসা, জামিয়াতুল ইব্রাহিম মাদ্রাসা, মারকাজুল তাহরিকে খতমে নবুওয়াত কারামাতিয়া মাতালাউল উলুম মাদ্রাসা এবং নূরে মদিনা দাখিল মাদ্রাসা। তবে এইসব ব্যাংক হিসেব পাওয়ার তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিবে কিনা সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

