Monday, April 27বাংলারবার্তা ২১-banglarbarta21
Shadow

প্রতি বছর ৩৬ হাজার কোটি টাকা ব্যায় রহিঙ্গাদের পিছনে, এর উৎস কোথায়?

বার্তা প্রতিনিধি: গত বছর মায়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে আশ্রয় নেয়া বাংলাদেশে রহিঙ্গাদের চাপ দিন দিন বাড়ছে। এদের পিচনে খরচের হিসাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য গত ২ বছরে বাংলাদেশের খরচ হয়েছে প্রায় ৭২ হাজার কোটি টাকা। রোহিঙ্গাদের পেছনে প্রতি মাসে সরকারের খরচের পরিমাণ আড়াই হাজার কোটি টাকার ও বেশী।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

গত কয়েকদিন আগে একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে হিসেব মতে জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের বস্তুচ্যুত নাগরিকের সংখ্যা এখন প্রায় ১১ লাখের বেশি। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশের রহিঙ্গা প্রবেশে ২০১৮ সালের জুন মাসে জাতিসংঘের তৈরি করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষের পেছনে মাসে মাথাপিছু ব্যয় প্রায় ৭০০ ডলার। কিন্তু রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার চাহিদা মেটানোর প্রয়োজনেও একই পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়। কিন্তু এই ব্যয় নির্বাহের জন্য বৈধপথে কোনও আয়ের উৎস নেই বাংলাদেশের। অথচ ৭০০ ডলার করে প্রতিবছর ব্যয় হচ্ছেই। আর এ কারণে টানা দুই বছর ধরে এই বিশাল ব্যয় নির্বাহ করতে হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারকেই।

জানা যায় গত অর্থবছরে সরকারের বাজেটে আলাদা করে রোহিঙ্গাদের জন্য ৪শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গাদের জন্য স্থায়ী আবাসন গড়তে নোয়াখালীর ভাসানচরে আবাসন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ভাসানচরে ১২০টি গুচ্ছগ্রামে এক হাজার ৪৪০টি ব্যারাক ও ১২০টি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা। যা পুরোটাই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র। সরকার নির্যাতিত রহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার ফলে এখন এই ব্যায় বহন করতে হচ্ছে।

অনুসন্ধানী সূত্র মতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন থেকে পাওয়া তথ্যে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের চিহ্নিতকরণ-সংক্রান্ত একটি কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার বসবাসের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় এক লাখ ৬৫ হাজার আশ্রয় ক্যাম্প। পাহাড় ও বন কেটে স্থাপন করা হয়েছে এসব আশ্রয়ক্যাম্পের অবকাঠামো। এ কারণে উজাড় হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার একর সংরক্ষিত বনভূমি। এতে ৩৯৭ কোটি ১৮ লাখ ৩৭ হাজার ৩৯৩ টাকার সমপরিমাণ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়েছে বলেও মনে করে জাতিসংঘ।

এদিকে কক্সবাজার বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২-এর ৪/১৪ (ক)-অনুযায়ী সংরক্ষিত বনাঞ্চলের দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোনওপ্রকার অবকাঠামো বা স্থাপনা নির্মাণ করার ক্ষেত্রে আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাংলাদেশ বন বিভাগের এই আইন উপেক্ষা করে কক্সবাজারের কুতুপালংয়ের ৪০১ দশমিক ৪০ একর, জামতলী ও বাঘঘোনার ৫১৬ একর, বালুখালীর ৮৩৯ একর, তাজনিমা খোলার ৪৫১ একর, উখিয়ার বালুখালী ঢালা ও ময়নারঘোনার ৩১০ একর, শফিউল্লাহ কাটা এলাকার ২০১ দশমিক ২০ একর, নয়াপাড়ার ২২৪ একর, টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের পুঁটিবুনিয়ার ৮৮ দশমিক ৬০ একর, কেরনতলী ও চাকমারকুল এলাকার ৭৯ দশমিক ৮০ একর এবং লেদারের ৪৫ একর সংরক্ষিত বনভূমি উজার করে রোহিঙ্গাদের জন্য আবাসন ক্যাম্প গড়ে তোলা হয়েছে। খবর নিয়ে জানা যায় উজাড় করা ঐ বন বিভাগ স্থানীয় হিসাবে এর একই পরিমাণ জমির দাম দাঁড়ায় প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা, যা সরকারের নিজস্ব সম্পত্তি। আর উজাড় হওয়া বন যা আর কোনওদিনই ফেরত পাওয়া যাবে না।

সুত্র: মানবকণ্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *