Saturday, May 9বাংলারবার্তা ২১-banglarbarta21
Shadow

সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক, দুর্নীতি ও যৌতুকের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম লালদিঘিতে লাখো জনতার শপথ

বার্তা প্রতিনিধি: স্বরনকালেন শ্রেষ্ট শপথ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম লালদিঘি ময়দানের বিরাট সমাবেশে চট্টগ্রামের সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা রূপকল্প নির্ধারণ করেছেন ২০৪১ এর মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ। সেই উন্নত বাংলাদেশের জন্য আমাদের নতুন প্রজন্মকে, আগামীর প্রজন্মকে সব ধরনের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক, দুর্নীতি ও যৌতুক থেকে নিজেদের রক্ষা করতে হবে। মেয়র বলেন, আপনারা জানেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর সুস্পষ্ট লক্ষ্য ছিলো-একটি সমৃদ্ধ জাতি ও উন্নত বাংলাদেশ, দেশের সব মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং প্রত্যেকটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা রূপকল্প নির্ধারণ করেছেন ২০৪১ এর মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ। সেই উন্নত বাংলাদেশের জন্য আমাদের নতুন প্রজন্মকে, আগামীর প্রজন্মকে সব ধরনের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক, দুর্নীতি ও যৌতুক থেকে নিজেদের রক্ষা করতে হবে।

এসময় মহাসমাবেশে লাখো জনতাকে শপথ বাক্য পাঠ করান সিটি মেয়র। তার মুখে মুখে উপস্থিত জনতা বলেন, আমি মহান সৃষ্টিকর্তার নামে শপথ করছি যে- নিজেকে সফল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক সুস্থতা ধরে রাখতে কোনো অনৈতিক কাজে অংশগ্রহণ করবো না। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিতে জড়িত হবো না। কোনো অজুহাতে মাদকের শরণাপন্ন হবো না। কোনো অবস্থাতেই যৌতুক গ্রহণ ও প্রদান করবো না।
সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, যৌতুক, দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলবো। সব অপরাধবিষয়ক সংবাদ প্রথমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাবো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী দেশকে ভালোবাসবো। বাংলাদেশকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সর্বদা অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকবো। আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর এ মাহেন্দ্রক্ষণে তার যোগ্য কন্যা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত দুর্নীতি ও মাদকবিরোধী চলমান জিরো টলারেন্স নীতিকে বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। আমাদের প্রত্যাশিত ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সন্ত্রাস, মাদক, যৌতুক ও দুর্নীতি প্রধান অন্তরায়। এ অন্তরায়গুলো দূর করে নিরাপদ বাসযোগ্য পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ও উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা ঐক্যবদ্ধ হলাম। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জনগণের প্রতি যে দায়বদ্ধতা, অঙ্গীকার, জনগণের প্রতি যে সেবা আমরা দিয়ে থাকি সেই অঙ্গীকার থেকে ৪১টি ওয়ার্ডের সব শ্রেণি পেশার মানুষকে নিয়ে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক, যৌতুক ও দুর্নীতিবিরোধী জনমত তৈরি করতে সভা সমাবেশ করেছি। আমাদের মূল লক্ষ্য মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি ও যৌতুক থেকে আমাদের পরিবারকে রক্ষা করা, এ নগরকে সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গিবাদ ও যৌতুক মুক্ত রাখা।

সিটি মেয়র বলেন, অতীতেও পাকিস্তান আমল থেকে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের সূতিকাগার ছিল চট্টগ্রাম। পূর্বসূরিদের দেখানো পথ অনুসরণ করে, চসিকের মেয়র হিসেবে, প্রধানমন্ত্রীর নগণ্য কর্মী হিসেবে আমিও এই নগরকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক, দুর্নীতিমুক্ত করতে বদ্ধপরিকর।
শপথ বাক্য পাঠ করানোর আগে মেয়র স্মরণ করেন, চট্টগ্রামের বার আউলিয়া, মাস্টারদা সূর্য সেন, প্রীতিলতা, মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, এমএ আজিজ, জহুর আহমেদ চৌধুরী, এমএ হান্নান, এমএ মান্নান, আতাউর রহমান খান কায়সার, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু, এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং ইসহাক মিয়াকে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, মাদকসেবীর হাতে নিহত মা বাবার সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। মাদকসেবীরা জানোয়ারে পরিণত হয় উল্লেখ করে বলেন, চট্টগ্রামের মেয়রের নেতৃত্বে এই জনপদকে মাদকশূন্য করতে পারবো। মাদকের বিরুদ্ধে গর্জন শুনতে চাই। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার বাংলাদেশ থেকে হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে এবং এক বছরে ৬ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করেছে। এখনই সময় এসেছে মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর। কারণ মাদক আমাদের ধ্বংস করে দেবে।

প্যানেল মেয়র নিছারউদ্দিন আহমেদ মঞ্জু বলেন, মেয়র নাছিরের মধ্যে চট্টগ্রামে প্রতি ভালোবাসা ও অন্যায়ের প্রতিবাদের সাহস দেখেছি। তিনি মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, যৌতুক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এ মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছেন।
প্যানেল মেয়র জোবাইরা নার্গিস খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। চট্টগ্রামকে মাদকমুক্ত করতে আজ আমাদের শপথ নিতে হবে।

চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামশুদ্দোহা বলেন, সিটি মেয়র মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অলিখিত যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। ওয়ার্ডগুলোতে সমাবেশ করেছেন, জনমত গড়ে তুলেছেন। আজ মহাসমাবেশে চট্টগ্রামের মানুষ মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, যৌতুক ও দুর্নীতিবিরোধী শপথ নিতে এসেছেন।

চসিক কাউন্সিলর এইচ এম সোহেলের সভাপতিত্ব মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ এবং চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (অর্থ ও প্রশাসন) আমেনা বেগম। প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী এবং কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লবের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন প্যানেল মেয়র নিছার উদ্দীন আহমেদ মঞ্জু ও প্যানেল মেয়র জোবাইরা নাগির্স খান, চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আকতার। এছাড়া ৪১ টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলররাসহ বিভিন্ন পেশাজীবী, সাংস্কৃতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: দৈনিক পূর্বকোন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *