
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: গরীব অথচ মেধাবী ছাত্রী নুর নাহার বেগম। বাবার স্বল্প আয়ে সংসারই চলেনা। তাই তিনি তার মেয়েকে লেখাপড়া করাতে পারবেননা। সরেজমিনে যাওয়ার পর নুর নাহারের বাবা বললেন আমার মেয়ে আর স্কুলে পড়বেনা। আমি নিজেই চলতে পারিনা কিভাবে আমার মেয়েকে স্কুলে পড়াবো। মা হারা গরীব মেধাবী ছাত্রী নুর নাহার আক্তার দোলার বাবার এই কথাগুলোই মনে করিয়ে দেয় বহু বছর আগে সমাজে মেয়েদের প্রতি অবহেলা আর তাদের দুভাগ্যের কথা। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন শিক্ষার জন্য বিনামূল্যে ছাত্র/ছাত্রীদের হাতে বই তুলে দিচ্ছেন, খাতা কলম কেনার জন্য টাকা দিচ্ছেন একজন ও যেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, ঠিক এমই সময় মা হারা দোলার জীবনে নেমে আসল পড়ালেখা আর করতে হবেনা বাক্যটি।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!মা মারা যাওয়ার পর বাবার ২য় বিয়ের পর সৎ মায়ের সাথে তার মোটামুটি সুখের বসবাস। বাবার রং মিস্ত্রির কাজ করেন। সংসারে তেমন আয় না থাকলেও মোটামুটি সংসার চলে। কিন্তু আবু দুলাল তার মেয়েকে পড়াতে অক্ষমতার কথা জানালেন। কাঁদতে ছিলেন দোলা বলল আমি কি আর পড়তে পারব না। বাংলাদেশ সরকার যখন মেয়েদের পড়ার এত সুযোগ করে দিলেন বিনা মূল্যে বই দিচ্ছেন বিনা বেতনে অধ্যয়নের জন্য সুযোগ করে দিয়েছেন দেশে শতভাগ শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসার জন্য প্রানপন চেষ্টা করে যাচ্ছেন ঠিন এমই সময় অনেকের মত এই মেধাবী ছাত্রীর পড়ার দরকার নেই, এমন কথা শুনে মনটা শিউরে উঠল। বেপারটি জানতে পারেন চট্টগ্রামের সমাজ বান্ধব নারীদের সংঘঠিত করে অবহেলীত নারীদের প্রশিক্ষনের মাধ্যমে স্বাবলম্বি করার জন্য এমপি আব্দুল লতিফ একটি নারী সংগঠনের একজন নেত্রী ও চট্টগ্রাম অপরাধ অনুসন্ধান পত্রিকার বিজ্ঞাপন প্রতিনিধ রানু বেগম। তিনি দোলার বাসায় গিয়ে তার বাবাকে বুঝিয়েছেন বলেছেন সরকারের এত সুযোগ সুবিধা দেওয়ার পরও আপনি আপনার মেয়েকে কেন স্কুলে যেতে দিবেন না। এটা অন্যায়।
তিনি বলেন আমি গরিব আমার মেয়েকে লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারবনা। পরে রানু বেগম বলেন আমি তার লেখা পড়া, স্কুলে ভর্তি, বই খাতা কলম ড্রেস সহ সক কিছুর দায়িত্ব নিব শুধু আপনি মেয়েকে পড়ার অনুমতি দিন। দোলার বাবা এই কথা শুনে তাকে পড়াতে রাজি হলেন। এবার রানু বেগম আমাদের সাথে যোগাযোগ করার পর তিনি চট্টগ্রাম ছোটপোল ব্রীকফিল্ড, চট্টগ্রাম সিটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক জনাব এম সাইফুল্লাহ মুনির স্যারের সাথে কথা বললে শিক্ষা বান্ধব প্রধান শিক্ষক ও সিটি স্কুলের গভনিং বোর্ডের চেয়ারম্যান জনাব ডা: মো: আনোয়ার হোসাইনের সাথে কথা বললে এক বাক্যে তারা এই মেধাবী ছাত্রী দোলাকে তার স্কুলে ভর্তি করিয়ে বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ করে দিলেন। শুধু তাই নয় স্কুল কর্তৃপক্ষ দোলাকে সরকারী বই, স্কুল ড্রেস সহ যাবতীয় সবকিছু দিয়ে অষ্টম শ্রেনীর এই মেধাবী ছাত্রীকে পড়ার সুযোগ করে দিয়ে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। স্কুলের গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান জনাব ডা: মো: আনোয়ার হোসাইনে বলেন আমরা ব্যবসার জন্য স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করিনাই। র্শিক্ষার আলো ছড়িতে দিতে আমাদের এই প্রয়াস। শুধু আমাদের এই প্রতিষ্ঠান নয় সারা দেশে আমরা আরো স্কুল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমাজে অবহেলীত গরীব মেধাবী ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।
শুধু দোলা নয় আমাদের কাছে এমন গবীর, খরচের জন্য পড়া লেখার বন্ধ হয়ে যাবে এমন ছাত্র/ছাত্রীদের আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে অবশ্যই লেখাপড়ার শুযোগ করে দিব। বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক বলেন আমরা এখানে ভর্তি হওয়া সকল ছাত্র/ছাত্রীদের একটি আদর্শিক মনোরম পরিবেশে শিক্ষাদান অব্যাহত রাখব। যাদেরই টাকার জন্য লেখা পড়া বন্ধ হয়ে যাবে আমরা তাদের জন্য অবশ্যই আছি। আমি ও আমার এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষিকা মন্ডলি অত্যন্ত আন্তারিক। এই প্রতিষ্ঠানটি নতুন হলেও মনোরম পরিবেশের কারনে আমরা এলাকার অনেক সাড়া পেয়েছি।
এই প্রতিষ্ঠানটিতে যেন পড়ার মান ভাল রাখতে পারি তার জন্য এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিদের সহযোগীতা আশা করছি। এই ব্যাপারে এলাকার কমিশনার জনাব লিটন এর সাথে কথা বলে যানা গেছে এই প্রতিষ্ঠানটি অত্যান্ত ভাল পরিবেশ নিয়ে গড়ে উঠেছে এবং শিক্ষাত্রীদের শতভাগ শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার মান আরো উন্নত করার জন্য তাদের চেষ্টা আছে। প্রতিষ্ঠানটি গরীব মেধাবী ছাত্র/ছাত্রীদেরকে বিনা মূল্যে অধ্যয়নের সুযোগ করে দিচ্ছেন এমন নজীর খুব কমই আছে। আমি এই প্রতিষ্ঠানের উত্তরত্তর সাফল্য কামনা করছি। আমি এই প্রতিষ্ঠানের সাথে সবসমই আছি।
পরে চট্টগ্রাম সিটি স্কুলের গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান জনাব ডা: মো: আনোয়ার হোসাইন ও চট্টগ্রাম সিটি স্কুলের অধ্যক্ষ জনাব মো: সাইফুল্লাহ মুনির এবং সাপ্তাহিক অপরাধ অনুসন্ধান পত্রিকার চট্টগ্রাম প্রতিনিধি মো: শাকিল আহমেদ ও বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি রানু বেগম সহ দোলার হাতে অষ্টম শ্রেনীর বই শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেন। এই সময় বিদ্যালয়ে আসা অভিবাবক নারী সংগঠনের নেত্রী ও বিদ্যালয় শিক্ষক শিক্ষিকারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলার বার্তা/শাকিল

