Saturday, May 9বাংলারবার্তা ২১-banglarbarta21
Shadow

এ কেমন বিচার প্রধান শিক্ষকের বিচার দাবী ধর্ষিতা ছাত্রীর মার

বার্তা প্রতিনিধি: একজন প্রধান শিক্ষকের এ কেমন বিচার। খোদ রাজধনীর নবাবগঞ্জ উপজেলায় ধর্ষণের শিকার অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে পরীক্ষা না দিতে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় সাংবাদিকের কাছে উপজেলার বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন ওই ছাত্রীর মা।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

ধর্ষনের শিকার ছাত্রীর মা জানান, আমার মেয়ে ঢাকার নবাবগগঞ্জ উপজেলার বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। সম্পতি তার জীবনে একটি দুর্ঘটনা ঘটে যায়। দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার জন্য আমি গত ৯ জুলাই মেয়ের বকেয়া বেতন, জরিমানা, কোচিং ফি ও পরীক্ষার ফিসহ অন্যান্য পাওনাদি পরিশোধ করে দেই। পরে ১১জুলাই মেয়ে পরীক্ষা দিতে গেলে প্রধান শিক্ষক তাকে পরীক্ষা না দিতে দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেয়।

ঐ ছাত্রীর মা আরো বলেন, পরে আমি মেয়েকে বিদ্যালয়ে নিয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক তার কক্ষে আমাকে ডেকে নিয়ে বলে- আপনার মেয়েকে আর স্কুলে পাঠাবেন না। আমাদের বিদ্যালয়ে তাকে আর পড়ানো হবে না।

তবে ভূক্তভোগী স্কুলছাত্রীর মা আরো অভিয়োগ করেন, ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় যা হবার হবে। তবে মেয়েকে আমি পড়াতে চাই। লেখা-পড়া করতে না পারলে ও কি করবে? আমার মেয়েরই বা কি দোষ?

উল্লেখ্য যে গত জুন মাসের ১৯ তারিখ ঐ স্কুল শিক্ষার্থীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ঢাকার দোহারের এক যুবক তার দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ওই এলাকার জয়পাড়া বাজারের ড্রীম চাইনিজে নিয়ে তাকে ফুসলিয়ে বন্ধুদের সহায়তায় জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে ঐ রাতেই ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে দোহার থানায় তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

তবে এ ব্যাপারে বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়েছিলো কিনা সেটা আমার জানা নেই।

পরে এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সিদ্দিকী নুর আলম বলেন, এ বিষয়টি বৃহস্পতিবার সকালে শুনেছি। তবে সে যদি পড়ালেখা করতে চায় তাহলে আমরা সহযোগিতা করবো।

এদিকে উক্ত বিষয়ে দোহার থানার ওসি মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, নির্যাতিত শিক্ষার্থীকে প্রধান শিক্ষক স্কুল থেকে তাকে বের করে দিয়েছেন শুনে আমি নবাবগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বিষয়টি জানিয়েছি।

অন্যদিকে পরিক্ষা না দিতে দেয়ার বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম সালাউদ্দিন মনজু বলেন, বিষয়টি আমি শোনা মাত্র উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছি। কোনো মেয়ের পড়াশোনা হুমকিতে পড়ুক তা কাম্য নয়। মেয়েটির লেখা-পড়ার ব্যাপারে সকল ধরণের সহযোগিতা করা হবে।

তবে ঐ ছাত্রীর মা বলেন যেখানে তাকে উৎসাহিত করবে তানা করে তাকে পরীক্ষা নাদিতে দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেন। তাই তিনি তদন্ত করে প্রধান শিক্ষকের বিচার দাবী করেন।

সূত্র: মানবকণ্ঠ/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *