
বার্তা প্রতিনিধি: নিজের প্রেমকে কাছে পেতে নিজের ধর্মকে ত্যাগ করলেন অভিনেত্রী নুসরাত। অভিনেত্রী নুসরাত জাহান ভারতের রাজনীতির মাঠ সরগরম করে আলোচনার কেন্দ্রে এখন। নির্বাচনে জয়ী হয়ে তৃণমূল সভানেত্রীকে বসিরহাট আসনটি উপহার দেন নুসরাত। তবে এসব ছাপিয়ে এখন সমালোচিত এই ভারতীয় সংসদ সদস্য।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!এর কারণ এখন তার নাম নুসরাত জাহান রুহি জৈন। যা মোটেই মানতে পারেনি দেশটির দেওবন্দের ইসলামী সংগঠন দারুল উলুম। বিশেষ করে মুসলিম নারী হয়ে সিঁদুর দিয়ে ও মঙ্গলসূত্র পরে সংসদে অংশগ্রহণের পর তীব্র সমালোচনায় পড়েন নুসরাত।

তবে গত ২২ জুন তুরস্কের বোদরুম শহরে জৈন ধর্মের অনুসারী নিখিল জৈনকে বিয়ে করেন নুসরাত। নিখিল জৈনকে বিয়ে করার পর নুসরাতের নতুন নাম নুসরাত জাহান রুহি জৈন। হিন্দু নারীর মতোই তার সিঁথি রাঙিয়েছেন সিঁদুরে। হাতে চূড়া, মেহেদি, গলায় মঙ্গলসূত্র, এভাবেই নববধূর বেশে গত ২৫ জুন সংসদে উপস্থিত হয়েছিলেন বসিরহাট কেন্দ্রের নবনির্বাচিত এই তৃণমূল সাংসদ।
এদিকে বিষয়টি ইসলামে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য জানিয়ে বক্তব্য দেন দেওবন্দের দারুল উলুম-এর ইমাম মুফতি আসাদ ওয়াসমি।
তবে তার সেই বক্তব্যের সমালোচনায় মেতে ওঠেন দেশটির হিন্দু কট্টরবাদীসহ বিজেপি নেতৃবৃন্দের কেউ কেউ। নুসরাতের সমর্থনে কথা বলেছেন ভারতে নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

এদিকে গতকাল নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে তসলিমা নাসরিন লেখেন- নুসরাত জাহান, একজন মুসলিম, তিনি বিয়ে করেছেন অমুসলিম নিখিল জৈনকে। হিন্দুপ্রথা মেনে সাতপাকে বাঁধা পড়েছেন। দুজনের কেউই তো ধর্মান্তরিত হননি! কিন্তু দেওবন্দের মৌলবাদীরা এতে বেজায় চটলেন। তারা চান অমুসলিমরা বিয়ের আগে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়ে যাক। চুলোয় যাক। দুজন ভিনধর্মে বিশ্বাসী মানুষ বিয়ে করলেন। বেশ করেছেন।
অন্যদিকে নুসরাতের সমালোচনা করে দেওবন্দ ইমাম মুফতি আসাদ ওয়াসমি বলেন, খোঁজ নিয়ে জেনেছি- তিনি (নুসরাত) জৈন সম্প্রদায়ের একজনকে বিয়ে করেছেন। ইসলাম বলে, একজন মুসলমান শুধু মুসলমানকেই বিয়ে করতে পারেন। নুসরাতের এমন কাজ ইসলামে কখনই গ্রহণযোগ্য নয়।

ইমাম আরও বলেন, নুসরাত একজন অভিনেত্রী। আর বরাবরই দেখে এসেছি- অভিনেত্রীরা ধর্মের অনুশাসন মানেন না, যা ইচ্ছা তা-ই করে বেড়ান। সেটিই তিনি সংসদে করে দেখালেন। মুসলিম নারী হয়ে তিনি সংসদে সিঁদুর এবং মঙ্গলসূত্র পরে এসেছিলেন।
দেওবন্দ ইমামের এই বক্তব্যের সমালোচনা করেছে হিন্দু কট্টরবাদীরা। এদিকে ধর্মীয় বিষয়ে নিজেকে এভাবে জড়িয়ে যেতে দেখে নিজের অভিমত জানান নুসরাত। এমন বিতর্ককে রীতিমতো খারিজ করে দিয়েছেন তিনি।
সারা দুনিয়ার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক স্ট্যাটাসে নুসরাত বলেন, ইতিহাস সাক্ষী যে, কোনো ধর্মের কট্টরপন্থীদের মন্তব্যকে গুরুত্ব দিলে বা প্রতিক্রিয়া জানালে সেটি শুধু ঘৃণা ও হিংসাই ছড়ায়।
তিনি বলেন নিজেকে এখনও একজন মুসলমান ভাবি’ বলে দাবি করেন নুসরাত। পোশাক-সাজসজ্জাকে ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপরে স্থান দেন তিনি।
তিনি আরো বলেন ধর্ম বিষয়ে নিজের দৃঢ় অবস্থান জানাতে টুইটারে নুসরাত লেখেন- সব ধর্মকেই আমি শ্রদ্ধা করি। আমি একজন মুসলমান। কিন্তু যে ভারত জাতপাত-ধর্মের সমস্ত বাধার ঊর্ধ্বে, আমি এখন সে ভারতের প্রতিনিধি।
তবে তিনি কী পরবেন আর না পরবেন তা নিয়ে কারও মন্তব্য করা উচিত নয় বলে জানান নুসরাত। নুসরাতের মতে, বিশ্বাসের মানে সব ধর্মের অমূল্য শিক্ষাগুলোকে মনে গ্রহণ করা ও তা পালন করা।ভারত বাংলার জনপ্রিয় নায়িকা নুসরাত আজ ৪ জুলাই কলকাতার এক
পাঁচতারা হোটেলে বড় আয়োজনে রিসেপশন অনুষ্ঠিত হবে নুসরাত জাহান ও নিখিল জৈনের। নায়িকার বিয়েতে টালিউড ইন্ডাস্ট্রির প্রায় সব তারকাই আমন্ত্রণ পেয়েছেন। অন্যদিকে নুসরাত নাকি নিজেই শাহরুখকে ফোন করে রিসেপশনে আসার জন্য আমন্ত্রণ করেছেন।
এদেকে শুধু শাহরুখ খান নয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নুসরাতের রিসেপশনে উপস্থিত থাকবেন বলে শোনা যাচ্ছে। এছাড়া উপস্থিত থাকবেন তৃণমূল কংগ্রেসের বড় নেতা-নেত্রীরাও।
‘খোকা ৪২০’, ‘খিলাড়ি’, ‘অ্যাকশন’, ‘জামাই ৪২০’, ‘হর হর ব্যোমকেশ’, ‘জুলফিকার’, ‘লাভ এক্সপ্রেস’, ‘ওয়ান’, ‘বলো দুর্গা মাই কি’, ‘আমি যে কে তোমার’সহ অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করেছেন নুসরাত। ২০১১ সালে ‘শত্রু’ ছবির মাধ্যমে টালিউডে অভিষেক হয় এই তারকার। ইদানিং নুসরাতের বিয়ে নিয়ে সারা বিশ্বে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।
সূত্র: মানবকন্ঠ

