Friday, April 17বাংলারবার্তা ২১-banglarbarta21
Shadow

মাগুরায় ধর্ষিত সেই শিশুটির নিথর দেহ বাড়িতে ফিরছে আজ

মাগুরায় ধর্ষণের শিকার আট বছরের শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ধর্ষনকারীর দুটি আশাই পূরণ হয়েছে। আজ সেই ধর্ষণের শিকার হয়ে নিহত শিশুটির নিথর দেহ মাগুরায় তার গ্রামের বাড়িতে ফিরছে। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে মাগুরা স্টেডিয়ামে পৌঁছে তার মরদেহ।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

এর আগে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর থেকে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার তাকে নিয়ে রওনা হয় স্টেডিয়াম থেকে অ্যাম্বুলেন্সে তাকে নেওয়া হচ্ছে গ্রামের বাড়িতে। আজ রাতেই নোমানী ময়দানে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আরো জানতে পড়ুন: জাতিসংঘ মহাসচিবের বাংলাদেশ সফর গুরুত্বপাবে মানবাধিকর ও রহিঙ্গা ইস্যু

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মাগুরায় ধর্ষণের শিকার আট বছর বয়সী শিশুটি।

সামরিক হাসপাতালের শিশু বিভাগের শিশুরোগের চিকিৎসাসংক্রান্ত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (পিআইসিইউ) চিকিৎসা চলছিল শিশুটির। গতকাল বুধবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারবার ও বৃহস্পতিবার আরও দু‘বার ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ (আকস্মিকভাবে হৃৎস্পন্দন বন্ধ) হয় শিশুটির।

আট বছরের শিশুটি ৫ মার্চ মাগুরায় বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে গভীর রাতে ধর্ষণের শিকার হয়। শিশুটিকে প্রথমে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে স্থানান্তর করা হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে তার অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। পরে বৃহস্পতিবার রাতে অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আরো জানতে পড়ুন: বাতিল হচ্ছে ৫৩ বছরে সংস্থা এনবিআর রাজস্বখাতে জবাবদিহিতা আনতে এই উদ্যেগ

শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার রাতে শিশুটিকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে শনিবার (৮ মার্চ) বিকেলে শিশুটিকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার চিকিৎসা চলছিল।

মাগুরায় ধর্ষণের ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে চারজনের নামে মামলা করেন। ধর্ষণের অভিযোগে শিশুটির ভগ্নিপতি সজিব (১৮), সজীবের ভাই রাতুল (১৭), তাদের বাবা হিটু মিয়া (৪২) ও মা জাবেদা বেগমকে (৪০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এছাড়া দেশের বিভিন্ন মানুষজন ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মাগুরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহেদ হাসান টগর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। মেনে নিতে পারছি না। আমরা আইনজীবীর সমিতির পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ধর্ষকদের পক্ষে কোনো আইনি সহায়তা দেওয়া হবে না। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। এ জন্য আইনজীবী সমিতি সব ধরনের সহায়তা করবে।

জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লাবনী জামান জানান, সারাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়েই চলেছে। তারই ধারাবাহিকতায় মাগুরায় এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। আমরা মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে ধর্ষকের অবিলম্বে ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি। বিচারকাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত জেলা মহিলা পরিষদ সবসময় শিশুটির পরিবারের পাশে থাকবে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মো. হুসাইন বলেন, এ ঘটনায় আমরা ক্ষুব্ধ। শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ধর্ষকদের ফাঁসি কার্যকর না হলে মাগুরায় দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব।

আরো জানতে পড়ুন: নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বেই এনসিপির আত্মপ্রকাশ আজ কোন বিরোধ নেই জানিয়েছেন নেতারা

জেলা গণকমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী সম্পা বসু বলেন, এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। ধর্ষকের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকব।

মাগুরা শহরের রিকশাচালক আব্দুর রহমান ধর্ষকের প্রকাশ্যে ফাঁসির দাবি জানান।

এদিকে শিশুটির মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রামে। গ্রামের ওহিদুর রহমান নামে এক বাসিন্দা বলেন, আমরা বাকরুদ্ধ। শুধু বলতে চাই, দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন করে ধর্ষকের ফাঁসি নিশ্চিত করুন।

নিহত মেয়েটির প্রতিবন্ধী বাবা ফেরদৌস শেখ শোকে মুহ্যমান। কান্না করতে করতে বললেন, কন্যার হত্যার বিচার চান তিনি।

মাগুরা সদর থানার ওসি আয়ুব আলী জানান, এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়াধীন। আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্তক রয়েছে পুলিশ।

এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, আমরা আমাদের বোনকে যেভাবে হারিয়েছি; এটি পুরো দেশের জন্য লজ্জার। যারা এই ঘটনায় দায়ী অবিলম্বে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) শিশুটির পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

সারজিস আলম আরও বলেন, আগামীর বাংলাদেশে আর কোনো বোনকে আমরা এভাবে হারাতে চাই না। ধর্ষণ নামের নৃশংসতাকে চিরতরে বন্ধ করতে হবে।

এ সময় সিএমএইচে নিহতের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠন হাসনাত আব্দুল্লাহ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক প্রমুখ।

এদিকে এনসিপির দুই নেতা সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ এ ঘটনায় ফেসবুকেও তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। একই স্ট্যাটাসে শেয়ার করেছেন দুজন। তারা লিখেছেন, ‘আমাদের বোন আর নেই। তার ধর্ষণের বিচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে ধর্ষকদের শাস্তির এক দৃষ্টান্ত স্থাপন হোক। বিচারহীনতা, বিচারে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং দীর্ঘসূত্রতা বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থাকে যে ধ্বংসাবশেষ জায়গায় নিয়ে গিয়েছে, শিশুটির ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার মাধ্যমে সেই বিচার ব্যবস্থা আবার জেগে উঠুক। পুরো বাংলাদেশ বোনটির কাছে ক্ষমাপ্রার্থী, লজ্জিত।’

প্রসঙ্গত তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে নেওয়া হবে। সেখান থেকে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে নেওয়া হবে গ্রামের বাড়ি মাগুরায়। আজ সন্ধ্যা ৭টায় মাগুরার নোমানী ময়দানে শিশুটির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে আইন উপদেষ্টা বলেন, মাগুরায় ধর্ষণের শিকার শিশুটির ময়নাতদন্ত আজকেই সম্পন্ন হবে। এরইমধ্যে ডিএনএ স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী ৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট পাওয়া যাবে। এ ঘটনায় বারো থেকে তেরো জন ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ধর্ষণ ও বলাৎকারের মামলাগুলো দ্রুত বিচার করতে বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হবে। আগামী রোববারের মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধনীর অধ্যাদেশ জারির চেষ্টা করা হবে। এ সময় দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে সরকার ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে, আজ দুপুরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে মাগুরায় ধর্ষণের শিকার শিশুটি। তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার মাগুরা শহরতলীর একটি এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। শনিবার মাগুরা সদর থানায় শিশুটির মা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও আহত করার অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় শিশুটির ভগ্নীপতি, বোনের শ্বশুর, শাশুড়ি ও ভাশুরকে আসামি করা হয়। এরই মধ্যে তাঁদের গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *