Sunday, May 10বাংলারবার্তা ২১-banglarbarta21
Shadow

সরকারী সেবা নম্বরে ফোন করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে ত্রান সহায়তা পেলেন এক পরিবার

অনলাইন বার্তা চট্টগ্রাম: করোনায় সারা দেশের মানুষ যখন ঘরে বন্দি তখন সরকারি তথ্য সেবা নম্বর ৩৩৩-এ ফোন পেয়ে চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ থানার খাজা গরীবে নেওয়াজ লেন এলাকায় এক দিনমজুর পরিবারের জন্য গভীর রাতে ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।
রোববার (২৯ মার্চ) দিনগত রাতে জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেনের নির্দেশে ওই পরিবারের কাছে চাল-ডালসহ ৩৩ কেজি শুকনো খাবার পৌঁছে দেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, রাতে সরকারি তথ্য সেবা নম্বর ৩৩৩-এ ফোন দিয়ে বায়েজিদ এলাকার এক নারী ত্রাণ সহায়তা চান। ৩৩৩ থেকে এডিসি জেনারেল স্যারের সঙ্গে ওই নারীর যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরো জানান, এডিসি জেনারেল স্যার ওই নারীর সঙ্গে কথা বলে তার পুরো তথ্য নেন। পরে ডিসি স্যারের নির্দেশে ওই নারীর পরিবারের জন্য তাৎক্ষণিক ৩৩ কেজি শুকনো খাবার পৌঁছে দেন।

এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই নারীর পরিবারের কাছে ২০ কেজি চাল, ৪ কেজি চিড়া, ২ কেজি ডাল, ২ কেজি চিনি, ২ কেজি লবন, ২ লিটার তেল এবং ১ কেজি নুডলসসহ ৩৩ কেজি শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

এদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কামাল হোসেন জানান, রাতে এক নারী ফোন দিয়ে কান্না করতে থাকেন। খাবার না থাকায় তার পরিবার দুই দিন ধরে না খেয়ে আছেন বলে জানান। সঙ্গে সঙ্গে তার পুরো তথ্য আমরা নোট নিই। ডিসি স্যারের নির্দেশে রাতেই ওই নারীর পরিবারের জন্য ত্রাণ সহায়তা পাঠানো হয়।

জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কামাল হোসেন আরো জানান, ওই নারী আমাদের জানিয়েছেন- তার স্বামী দিনমজুর। করোনার প্রভাবে ৭ দিন ধরে তিনি বেকার। ৪ সন্তান নিয়ে তাদের ৬ জনের পরিবার। রোববার দুপুর থেকেই সন্তানেরা খাবারের জন্য কান্নাকাটি শুরু করে। কারও কাছে সাহায্য না পেয়ে রাতে সরকারি সেবা নম্বরে ফোন দিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন আগেই ঘোষণা দিয়েছে করোনার প্রভাবে লক ডাউনে থাকার সময়ে চট্টগ্রামে একজন মানুষও অভুক্ত থাকবেন না। দিনমজুরসহ নিম্ন আয়ের মানুষের ঘরে ঘরে আমরা ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছি। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী আছে। সবার কাছেই আমরা ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেবো।

গত রবিবার বায়েজীদ থানার খাজা গরীবে নেওয়াজ লেন এলাকার ত্রাণ সহায়তা পাওয়া ওই নারী জানান, খাবার ফুরিয়ে যাওয়ায় সন্তানদের মুখে কিছু তুলে দিতে পারছিলাম না। তারা কান্না করছিলো। অনেকটা নিরুপায় হয়ে সরকারি সেবা নম্বরে ফোন দিই। কিছুক্ষণের মধ্যে আমাদের বাসায় খাবার পাঠান ডিসি স্যার।

ঐ নারি আরো বলেন, ফোন দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই খাবার বাসায় চলে আসবে- এমনটা ভাবিনি। খুব দ্রুতই আমরা সরকারী সেবা নম্বরে ফোন করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে শুকনা খাবার পেয়ে রাতেই রান্না করেছি। সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিয়েছি। তিনি তাৎক্ষনিক আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *