Friday, July 24বাংলারবার্তা ২১-banglarbarta21
Shadow

সংসদে এক কোটি কর্মসংস্থানের কথা জানালেন পরিকল্পনা মন্ত্রী

বার্তা প্রতিনিধি: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পাওয়া মন্ত্রী এম এ মান্নান জানিয়েছেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক অভিক্ষেপ অনুযায়ী আগামী সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদে (২০১৬-২০) কর্মসংস্থানের প্রাক্কলিত গড় প্রবৃদ্ধি হবে ৩.৭ শতাংশ। অর্থাৎ ৫ বছরে নতুন করে ১ কোটি ২৯ লাখ বেকারের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। এছাড়া ২০২০ সাল নাগাদ প্রক্ষেপিত দারিদ্র্য হার হবে ১৮.৬ শতাংশ যা দেশে বিদ্যমান বেকারত্বের হার কমিয়ে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে আয় বৈষম্য দূর করা সম্ভব হবে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে টেবিলে প্রশ্নোত্তর পর্বে এম আবদুল লতিফের (চট্টগ্রাম-১১) প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
পরিকল্পনামন্ত্রী আরো জানান, এই পরিকল্পনার মেয়াদে বাংলাদেশে জনমিতি লভ্যাংশ অধিকহারে গ্রহণের সুযোগ থাকবে যা ভারতে বর্তমানে হ্রাসমান এবং চীনে ঋণাত্মক রয়েছে। এসময় তিনি এ বিষয়ে গৃহীত বিস্তারিত কায়ক্রম তুলে ধরেন।

বিশ্ব অর্থনীতির শ্লথ ধারার বিপরীতে রপ্তানির পাশাপাশি বেড়েছে রেমিটেন্স মাহফুজুর রহমানের (চট্টগ্রাম-৩) লিখিত প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, মন্দার প্রকোপে বৈশ্বিক অর্থনৈতি যখন বিপর্যস্থ ছিল বাংলাদেশ তখন বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ও নীতি সহায়তার মাধ্যমে মন্দা মোকাবেলায় সক্ষম শুধুই হয়নি, জাতীয় প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের বেশি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির শ্লথ ধারার বিপরীতে আমদানি-রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে রেমিটেন্স। বিগত সময়ে বৈদেশিক মৃদ্রার রিজার্ভ বড়েছে সাড়ে নয় গুণ, দেশের রাজস্ব আয় বেড়েছে সাড়ে পাঁচ শতাংশ এবং আমদানি-রপ্তানী বেড়েছে তিনগুণের বেশি।

সংসদে দেওয়া মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫-০৬ অর্থ বছরের তুলনায় গত ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে যথাক্রমে ৩.২ শতাংশ ও ৩.৩ শতাংশ। তখন আমদানির পরিমাণ ছিল ১৪.৭ বিলিয়ন ডলার আর রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১০.৫ বিলিয়ন ডলার। আর গত ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। একইভাবে বিগত সময়ে বৈদেশিক মৃদ্রার রিজার্ভ বড়েছে সাড়ে নয় গুণ। ২০০৫-০৬ অর্থ বছরের বৈদেশিক রিজার্ভ ছিল ৩. ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

যা গত অর্থ অর্থ বছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও খাদ্যমূল্যের বৃদ্ধির অভিঘাতে ২০১০-১১ অর্থ বছরে মূল্যস্ফিতি ১০.৯ শতাশেং উন্নীত হয়েছিল। সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তা ক্রমান্বয়ে কমিয়ে গত অর্থ বছরে মূল্যস্ফিতি ৫.৭৮শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। দারিদ্র কিমিয়ে আনা হয়েছে ৪০ শতাংশ থেকে ২১.৮ শতাংশে।

আবার মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০০৯ সালে যেখানে ছিল ২২০ কিলোয়াট, সেখান থেকে ২০১৮ সালে ৪৬৪ কিলোয়াটে উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ সুবিধাভোগীর সংখ্যা থেকে ৪৭ শতাংশ থেকে ৯১ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।

এসময় পরিকল্পনামন্ত্রী আরো জানান, ২০০৫-০৬ অর্থ বছরের তুলনায় দেশের রাজস্ব আয় বেড়েছে সাড়ে পাঁচ শতাংশ। তখন মোট রাজস্ব আয় ছিল ৪৪.২ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থ বছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪১.৭৬ হাজার কোটি টাকা। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে দাঁড়িয়েছে ১৭৫১ মার্কিন ডলার। গত ১ বছরে মাথাপছিু আয় বেড়েছে ১৪১ মার্কিন ডলার। গত বছরে ছিলো ১৬১০ মার্কিন ডলার। পক্ষান্তরে ২০০৬ সালে মাথাপিছু আয় ছিল ৫৪৩ মার্কিন ডলার।

পরিকল্পনামন্ত্রী সংসদে আরো জানান, জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলের (ইকোসক) মানদণ্ড অনুযায়ী এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতে হলে একটি দেশের মাথাপিছু আয় দরকার কমপক্ষে ১২৩০ মার্কিন ডলার, আমাদের মাথাপছিু আয় ১৭৫১ মার্কিন ডলার। মানব সম্পদ সূচকে প্রয়োজন ৬৬ পয়েন্ট আমাদের অর্জন রয়েছে ৭২.৯। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সুচক দরকার ৩২, আমাদের রয়েছে ২৪.৮ ভাগ। এছাড়া উন্নয়শীল দেশে উন্নীত হতে হলে মাথাপিছু আয়, মানব সম্পদ সূচক ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক-এর মধ্যে যে কোন দু’টি অর্জন করতে হয়। অথচ বাংলাদেশ তিনটিতেই এগিয়ে রয়েছে। তিনি আরো জানান, সরকারের রুপকল্প-২০২১ এর লক্ষ্যসমুহ হলো- বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা এবং দারিদ্রের হার ১৩.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, মাথাপছিু আয় ২ হাজার ডলারে উন্নীত করা এবং বাণিজ্য অনুপাত (আমদানী ও রপ্তানী) জিডিপির ৬০ শতাংশে উন্নীত করা। বাংলাদেশের সব খাতে এই নিয়োগ পেলে শিক্ষিত বেকার কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন অনেকে।

সূত্র: বিডি প্রতিদিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *