
অনেক রোগের জন্ম নিজ থেকে নিতেও পারে আবার অন্যদের থেকেও হতে পারে। তবে নিজেদের অসাবধানতা ও অসতর্কতার কারণে যেসব অসুখ শরীরে দানা বাঁধে, তার মধ্যে অন্যতম মূত্রনালির সংক্রমণ। সাধারণত রেচনতন্ত্রের কোনো অংশে জীবাণুঘটিত সংক্রমণ হলে চিকিত্সা বিজ্ঞানের ভাষায়, তাকেই ‘ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন’ বলে। কিডনি, মূত্রনালি, মূত্রথলি বা একাধিক অংশেই এই ধরনের সংক্রমণ হতে পারে। তবে এই সংক্রমণের শুরুতেই সাবধান হলে বিড়ম্বনা অনেকটাই কমে। তাই অসুখের হানা ঠেকাতে জেনে নিন সেসব উপসর্গ।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!মূত্রনালিতে সংক্রমণের প্রভাবে প্রস্রাবের রং বদলে যায়। বেশ কিছু দিন ধরে গাঢ় হলুদ বা লালচে প্রস্রাব হলে সচেতন হোন। প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা ব্যথা অনুভব করেন অনেকে। এটিও সংক্রমণের দিকেই ইঙ্গিত করে। সংক্রমণের প্রভাবে অনেকের কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসতে পারে। বমিভাবও থাকে অনেকের। প্রস্রাবের বেগ এলেও প্রস্রাব না হওয়া বা প্রস্রাবের পরিমাণ অত্যন্ত কমে যাওয়াও আশঙ্কার কারণ। পেটে ব্যথা যে হবেই সব সময় এমন নয়, তবে তলপেটে একটা অস্বস্তি থাকে অনেকের ক্ষেত্রে।
কিডনি বিশেষজ্ঞদের মতে, মূত্রনালিতে সংক্রমণ হলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তবে এই অসুখ ঠেকাতে আমাদের কিছু অভ্যাসের দিকে বিশেষ নজর দেয়া প্রয়োজন। এই ধরনের অসুখ ঠেকাতে শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পানি খাওয়া প্রয়োজন। সাধারণত, যেটুকু পানি আমাদের প্রয়োজন, প্রতিদিন সেটুকুও আমরা খেয়ে উঠতে পারি না। শরীরের বর্জ্য বা জীবাণু তাই বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগও পায় না। এ ছাড়া সবুজ শাকসবজি ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার ও ফল রাখুন ডায়েটে। ভিটামিন ‘সি’ ক্ষতিকর ব্যাকটিরিয়া ধ্বংস করতে সহায়তা করে। বিশেষ করে অন্য কোনো অসুখের জন্য আনারস খাওয়া বারণ না হলে আনারস রাখুন ডায়েটে। এর ব্রোমেলাইন মূত্রপথে সংক্রমণ রুখতে অত্যন্ত কার্যকর।
মূত্রনালির সংক্রমণ রোধ : প্রতিবার প্রস্রাবের পর মূত্রনালি পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন, শুধু তাই নয়, অপরিষ্কার অন্তর্বাস থেকেও নানা জীবাণু সংক্রমিত হয়। তাই এসব ব্যবহারের সময়ও সতর্ক থাকুন। এ ছাড়া রাস্তাঘাটে যে কোনো শৌচালয় বা দূরপাল্লার ট্রেনে ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকুন। গন্তব্যে গিয়েই পরিষ্কার করুন প্রস্রাবের জায়গা। আনন্দবাজার।

