Friday, May 8বাংলারবার্তা ২১-banglarbarta21
Shadow

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের নিবন্ধিত দল ও স্বতন্ত্রের জন্য ১১৫টি প্রতীক বরাদ্ধ নেই এনসিপির শাপলা

আগামী ফেব্রুয়ারীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য ১১৫টি প্রতীক সংরক্ষণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তালিকায় নেই এনসিপির চাওয়া ‘শাপলা’ প্রতীক। নৌকা প্রতীক স্থগিত থাকায় অন্য প্রতীক প্রার্থীদের বরাদ্দ করা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

আজ ২৪/০৯/২০২৫ইং তারিখ বুধবার নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় এ সংশোধন গেজেট করা হয়েছে।

আরো পড়ুন: রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল গ্রেফতার ২৪৮

নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার তপশিলে সংসদ নির্বাচনে ‘দলীয়’ ও ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থীদের জন্য মোট ৬৯টি প্রতীক ছিল। এবার তা বাড়িয়ে ১১৫টি হল। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের ৫০টি দল নিবন্ধিত রয়েছে। এছাড়া নিবন্ধন বাতিল ও স্থগিত রয়েছে আরও ৫টি। এসব দলের বিপরীতে প্রতীকও সংরক্ষিত রয়েছে।

তবে এবার নতুন কয়েকটি দলও নিবন্ধিত হতে যাচ্ছে। দলীয় প্রার্থীর বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্যও প্রতীক সংরক্ষণে রেখেছে ইসি।

৫ই আগষ্টের পর সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর নতুন দল হিসেবে নিবন্ধন প্রত্যাশী দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি শাপলা প্রতীক বিধিমালার তপশিলে রাখার দাবি করে আসছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এ প্রতীকটি আর রাখেনি। সেক্ষেত্রে দলটির আর শাপলা প্রতীক পাওয়ার সুযোগ নেই। নিবন্ধন পুনর্বহাল হওয়া জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকও তালিকায় পুনর্বহাল হয়েছে।

এদিকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের পর দলটির নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে, নৌকা প্রতীকটিও তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি উঠেছিল। তবে ইসি বিধিমালার সংরক্ষিত তালিকায় নৌকা প্রতীক বহাল রেখেছে, তা স্থগিত রাখা হয়েছে।

আরো পড়ুন: রাবি রাকসু নির্বাচনে ৪২ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী

বরাদ্ধ পাওয়া ১১৫টি প্রতীক হলো: আপেল, আনারস, আম, আলমারি, ঈগল, উটপাখি, উদীয়মান সূর্য, একতারা, কাঁচি, কবুতর, কলম, কলস, কলার ছড়ি, কাঁঠাল, কাপ-পিরিচ, কাস্তে, কেটলি, কুমির, কম্পিউটার, কলা, কুড়াল, কুলা, কুঁড়ে ঘর, কোদাল, খাট, খেজুর গাছ, গরুর গাড়ি, গাভী, গামছা;, গোলাপ ফুল, ঘণ্টা, ঘুড়ি, ঘোড়া, চাকা, চার্জার লাইট, চাবি, চিংড়ি, চেয়ার, চশমা, ছড়ি, ছাতা, জগ, জাহাজ, টিউবওয়েল, টিফিন ক্যারিয়ার, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, ট্রাক, টেলিফোন, টেলিভিশন রয়েছে প্রতীকের তালিকায়।

এছাড়া আরও আছে ডাব, ঢেঁকি, তবলা, তরমুজ, তারা, থালা, দাঁড়িপাল্লা, দালান, দেয়াল ঘড়ি, দোয়াত কলম, দোলনা, ধানের শীষ, নোঙ্গর, নৌকা (স্থগিত), প্রজাপতি, ফুটবল, ফুলকপি, ফুলের টব, ফুলের মালা, ফ্রিজ, বক, বাঘ, বই, বটগাছ, বাঁশি, বেঞ্চ, বেগুন, বাইসাইকেল, বালতি, বেলুন, বৈদ্যুতিক পাখা, মই, মগ, মাইক, মটরগাড়ি (কার), মশাল, ময়ূর, মাছ, মাথাল, মিনার, মোমবাতি, মোবাইল ফোন, মোড়া, মোরগ, রকেট, রিক্সা, লাউ, লিচু, লাঙ্গল, শঙ্খ, সোনালী আঁশ, সেলাই মেশিন, সোফা, সিংহ, স্যুটকেস, হরিণ, হাত (পাঞ্জা), হাতঘড়ি, হাতপাখা, হাঁস, হাতি, হাতুড়ি, হারিকেন, হুক্কা ও হেলিকপ্টার।

আরো পড়ুন: ব্যাংকবহির্ভূত ৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার উদ্যোগ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

তবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে ‘শাপলা’, ‘সাদা শাপলা’ অথবা ‘লাল শাপলা’ প্রতীককে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করে দলটির অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

গত মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো এক লিখিত চিঠিতে এনসিপি দাবি করে, দলটি নিবন্ধনের সকল শর্ত পূরণ করেছে এবং জনগণের মাঝে ইতোমধ্যে শাপলা প্রতীক নিয়ে ব্যাপক পরিচিতি ও আবেগ তৈরি হয়েছে।

পার্টির কেন্দ্রিয় অফিস থেকে এক চিঠিতে এনসিপি বলেছে, বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট নকশায় আঁকা প্রতীক, যেখানে চারটি উপাদান রয়েছে শাপলা, ধানের শীষ, পাটপাতা ও তারকা। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই বিএনপিকে ‘ধানের শীষ’ এবং জেএসডিকে ‘তারা’ প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে। তেমনি জাতীয় ফল ‘কাঁঠাল’ এবং ‘সোনালী আঁশ’ও অন্য দলগুলোকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তারা চিঠিতে আরো বলেছে, জাতীয় প্রতীকের এক বা একাধিক উপাদান নির্বাচন প্রতীক হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হলে শাপলাকে বাদ দেওয়ার কোনো আইনগত যৌক্তিকতা নেই। তারা আরো বলেছে শাপলা প্রতীককে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার তফসিল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কমিশনের পক্ষপাতদুষ্টতা, স্বেচ্ছাচারিতা এবং একটি রাজনৈতিক দলের চাপের প্রতি নতিস্বীকারের বহিঃপ্রকাশ।

নতুন দল এনসিপি অভিযোগ করেছে, একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল যাতে এনসিপিকে শাপলা প্রতীক না পেতে দেয়, সে জন্য ‘তৎপরতা’ চালাচ্ছে এবং কমিশনের এ সিদ্ধান্ত সেই তৎপরতারই ফল।

দলটির চিঠিতে কমিশনকে জানায়, তারা প্রতীক হিসেবে শাপলা, সাদা শাপলা, লাল শাপলা এই তিনটির যেকোনো একটি গ্রহণে আগ্রহী এবং প্রয়োজনে প্রতীকের নকশা ও রঙ নিয়ে আলোচনার জন্যও প্রস্তুত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *