
চাকসু নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়েছে শিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল। ভিপি (সহসভাপতি) ও জিএস (সাধারণ সম্পাদক)সহ মোট ২৬টি পদের মধ্যে ২৪টিতেই বিজয়ী হয়েছেন এ প্যানেলের প্রার্থীরা। বাকি দুই পদের একটিতে জয় পেয়েছে ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী এবং অন্যটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!নির্বাচন শেষে ভোট গননার পর বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ১৪টি হল ও একটি হোস্টেলের ফলাফল ঘোষণা করেন চাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন।
আরো জানতে পড়ুন: রাবি রাকসু নির্বাচনে ৪২ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী
প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, ভিপি ইব্রাহিম পেয়েছেন ৭,৯৮৩ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় পেয়েছেন ৪,৩৭৪ ভোট। জিএস সাঈদ বিন হাবিব পেয়েছেন ৮,০৩১ ভোট, আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের শাফায়েত হোসেন পেয়েছেন ২,৭১৪ ভোট।
এজিএস পদে ছাত্রদল সমর্থিত আয়ুবুর রহমান তৌফিক পেয়েছেন ৭,০১৪ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শিবির সমর্থিত সাজ্জাত হোসেন মুন্না পেয়েছেন ৫,০৪৫ ভোট।
এর আগে বুধবার সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদ ভবনের ১৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে বিভিন্ন অনুষদ ভবনে একযোগে ভোট গণনা শুরু হয়—সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, ব্যবসা প্রশাসন অনুষদ, শহীদ হৃদয় তরুয়া অনুষদ ভবন (নতুন কলা), প্রকৌশল অনুষদ ও বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে।
আরো জানতে পড়ুন: রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল গ্রেফতার ২৪৮
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বশেষ চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯০ সালে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ২৭,৫১৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। মোট ভোটারের মধ্যে ১১,১৫৬ জন ছাত্রী। নির্বাচনে অংশ নেন ৯০৮ জন প্রার্থী, এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদের ২৬টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৪১৫ জন, আর ১৪টি হল ও ১টি হোস্টেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৪৯৩ জন।
এর আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ১ নম্বর গেটে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মাথায় আঘাত পেয়ে আহত হন হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) কাজী তারেক আজিজ। রাত ২টা পর্যন্ত মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে উভয় পক্ষ।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাত ৮টার পর ১ নম্বর গেট এলাকায় দুই দলের কর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নেয়।
আরো জানতে পড়ুন: ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের নিবন্ধিত দল ও স্বতন্ত্রের জন্য ১১৫টি প্রতীক বরাদ্ধ নেই এনসিপির শাপলা
হামলার খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে হট্টগোল হয়। এ সময় এএসপি কাজী তারেক আজিজের মাথায় আঘাত লাগে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলার এক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।
এদিকে রাত ৯টার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও আশপাশের এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। উভয়পক্ষই গেটের দুই পাশে অবস্থান নেয় এবং বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বিজয়ী প্রার্থীদের সমর্থকরা উল্লাস প্রকাশ করতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘জামায়াত–শিবিরের বহিরাগতরা এসে ১ নম্বর গেটে অবস্থান নিয়েছে। নির্বাচনে কারচুপি ও নানা অনিয়ম হয়েছে। সে কারণেই আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিয়েছি।’ তবে ঘটনাস্থলে থাকা জামায়াত–শিবিরের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে চাকসু নির্বাচনের ফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিনকে প্রকৌশল অনুষদ ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
প্রশাসক কর্তৃক জানা যায় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের প্রচেষ্টা চলছে।
নির্বাচন ফলাফল গননা শেষ হলে রাত সোয়া ১২টার দিকে সমাজবিজ্ঞান অনুষদে ডিন কার্যালয়ে ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী। সেখানে দেখা যায়, তিনটি হলের ফলাফলে ভিপি পদে ছাত্রদলের সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় এগিয়ে। এর আগে ঘোষিত শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেলে সাজ্জাদ ভোট পেয়েছেন ৩৪। রনি পেয়েছেন ২৭। মাস্টার দা সূর্যসেন হলে সাজ্জাদ পেয়েছেন ১৪০। রনি পেয়েছেন ১৩০ ভোট।
বিগত সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষবার নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ২৭ হাজার ৫১৬ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ কবেন। চাকসুতে এবার ভোটার প্রায় ২৭ হাজার ৫১৬ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ১১ হাজার ১৫৬ জন। নির্বাচনে লড়তে প্রার্থী হয়েছেন ৯০৮ জন। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদে মোট ২৬ পদে লড়ছেন ৪১৫ প্রার্থী। একই সঙ্গে ১৪টি হল ও ১টি হোস্টেলে প্রার্থী হয়েছেন ৪৯৩ জন।
আরো জানতে পড়ুন: সড়কে নিম্নমানের ইট-বালু বিক্ষোভের মুখে কাজ বন্ধ
চাকসু নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদে সহসভাপতি (ভিপি) পদে ২৪ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ২২ জন ও সহসাধারণ সম্পাদক পদে ২২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় একেকটি হলে পদসংখ্যা ১৪। সে হিসাবে ১৪টি হল ও ১টি হোস্টেলে মোট পদ ২১০টি। ছাত্রীদের ৫টি আবাসিক হলে ৭০টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১২৩ জন। একজন করে প্রার্থী রয়েছে ১৬টি পদে। সে হিসাবে ৫৩টি পদে ভোট হবে।
তবে চাকসু নির্বাচনে লড়তে প্যানেল হয়েছে ১৩টি। এর মধ্যে ছাত্রদলের প্যানেল; ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’, বামপন্থী ছাত্রসংগঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ১০টি সংগঠন মিলে ‘বৈচিত্র্যের ঐক্য’ (৩ পদে কেউ নেই), ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ প্যানেল ‘দ্রোহ পর্ষদ’ (৯টি পদে কেউ নেই) এবং জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের সংগঠন স্টুডেন্ট’স অ্যালায়েন্স ফর ডেমোক্রেসি ও ছাত্র ফেডারেশনের জোটবদ্ধ প্যানেল ‘বিনির্মাণ শিক্ষার্থী ঐক্যের’ মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

