Sunday, June 21বাংলারবার্তা ২১-banglarbarta21
Shadow

চট্টগ্রাম শহরে অালিশান বাড়ীগুলোর মালিক মাদক ব্যাবসায়ীরা

শাকলি আহমেদ: সরকার মাদককে নির্মুলের প্রক্রিয়াকে জোরদার করছে ঠিকই কিন্তু থেমে নেই মরন নাশক মাদক চোরাকারবারীরা। আর এই মরণ নেশা ইয়াবার সদর দরজা কক্সবাজারের টেকনাফে। ইয়াবা ব্যবসা করে এখানকার জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে জেলে, দিনমজুর এমনকি মুদি দোকানিও কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক বনে গেছেন। এসব ইয়াবা ব্যবসায়ীর বেশিরভাগই টেকনাফে আলিশান বাড়ি বানিয়েছেন। কেউ আবার আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিতে ইয়াবা ব্যবসার টাকায় অন্য জেলায় গড়েছেন অট্টালিকা।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কয়েকজনের বাড়ি টেকনাফে হলেও তারা সেখানকার বদলে পার্শ্ববর্তী জেলা চট্টগ্রামে আলিশান বহুতল বাড়ি বানিয়েছেন। এই বাড়িগুলো ঘিরে স্থানীয় মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই।

কক্সবাজারের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের অনেকেই আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। তারা আত্মসমপর্ণ করলে ইয়াবার টাকায় গড়া তাদের অবৈধ সম্পদের কী হবে তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আলোচনা হচ্ছে চট্টগ্রামে গড়ে তোলা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আলিশান বাড়ি নিয়েও।

জানা গেছে, গত পাঁচ থেকে সাত বছরে তারা চট্টগ্রাম শহরের অতিকাছাকাছি এলাকায় বিলাসবহুল বহুতল বাড়ি নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। স্থানীয় লোকজন তাদের চেনেন না। আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছেও তারা অপরিচিত মুখ। অন্যদিকে টেকনাফে দৃশ্যমান কিছু না থাকায় সেখানকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও তাদের সম্পর্কে কিছুই জানেন না। অথচ চট্টগ্রামকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে গত এক দশক ধরে তারাই ইয়াবার বড় কারবার করে আসছে।

তাদের কয়েকজনের মধ্যে রয়েছে মোহাম্মদ সোলায়মান ওরফে সোলায়মান মাঝি, হেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ হোসেন ও মোহাম্মদ আলী। এদের মধ্যে সোলায়মান মাঝি বর্তমানে কারাগারে। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গ্রেপ্তার এড়াতে মারামারির একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেছেন বলে জানা গেছে। গত বছরের মে মাসে দেশজুড়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে র্যাব-পুলিশের কঠোর অভিযান শুরু হলে সোলায়মান মাঝি আত্মগোপনে যায়। পরে পুলিশকে হাত করে কৌশলে গ্রেপ্তার হয়ে কারা হেফাজতে যায় বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। হেলাল উদ্দিন ও মোহাম্মদ হোসেন গত বছরের অভিযানের মধ্যেই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম আমাদের সময়কে বলেন, মাদককারবারিদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

সোলায়মান মাঝি : প্রায় দুই দশক আগে মিয়ানমার থেকে টেকনাফে আসেন। এর পর সাগরে মাছ ধরা শুরু করেন সোলাইমান মাঝি। মাছ ধরার আড়ালে একসময় ইয়াবাপাচারে যুক্ত হন। গত কয়েক বছরে বনে গেছেন ইয়াবার গডফাদারে। নগরীর পার্শ্ববর্তী কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নে ১০ কাঠা জমি কিনেছেন সোলায়মান মাঝি। সেখানে ৫ কাঠার ওপর নির্মাণ করেছেন চারতলা ভবন।

চার মেয়ে এক ছেলের মধ্যে ছেলে মোহাম্মদ শাহ থাকেন ঢাকায়। তিন মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন হল্যান্ড, ঢাকা ও কক্সবাজারে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী বলেন, ‘সোলায়মান মাঝির সঙ্গে এলাকার মানুষের সঙ্গে চেনা পরিচয় নেই। তিনি নিজেও মানুষের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহ দেখান না। শুনেছি তিনি গুটি ব্যবসা করেন, তাই পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে।’ ইয়াবাকে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের আঞ্চলিক ভাষায় গুটিও বলে।

সোলায়মান মাঝি এখন কোথায়? জবাবে তার স্ত্রী মমতাজ বেগম (৪৮) আমাদের সময়কে বলেন, তিনি মারামারি করে জেলখানায় আছেন। তবে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এলাকায় কোনো মারামারি হয়নি।

কর্ণফুলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাসান ইমাম আমাদের সময়কে বলেন, সোলায়মান মাঝি পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে জেলে গিয়ে এখনো সেখানেই আছেন।

চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডে তৈরি করা আলিশান চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় বসবাস করে সোলায়মান মাঝির পরিবার। বাড়ির ফ্লোরে দামি টাইলস। আর দামি আসবাবপত্রে ঠাসা। জানালায় শোভা পাচ্ছে দামি পর্দা।

জানা যায়, মিয়ানমার থেকে আসা সোলায়মান মাঝি একসময় শাহপরীর দ্বীপে বসবাস শুরু করেন। তার বাবার নাম মৌলভী ইয়াকুব সালাম। সাগরে মাছ ধরার ট্রলার চালাতেন বলে তার নামের সঙ্গে মাঝি শব্দটি যোগ হয়। চট্টগ্রামে ইয়াবার অন্যতম গডফাদার মোজাহের মাঝি ও সম্প্রতি হালিশহর এলাকায় ১৩ লাখ ইয়াবাসহ ধরা পড়া আশরাফ তার সহযোগী। আশরাফ র্যাবের কাছে সোলায়মান মাঝিকে নিজের চাচা বলে দাবি করেছেন।

হেলাল ও হোসেনের বাড়ি : কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ইছানগর গ্রামের বিএফডিসির বিপরীতে ডায়মন্ড সড়কে দুটি বহুতল বিলাসবহুল বাড়ি। একটি ১০ কাঠার ওপর, অন্যটির আয়তন ৫ কাঠা।

সোলায়মান মাঝির বাড়িটির মতোই এ দুই ভবনেরও সব টাইলস থেকে শুরু করে ফিটিংস বিদেশি। বাড়ির ছাদে রয়েছে ভিন্ন পরিবেশের বৈঠক ঘরও। অথচ বাড়ির সামনের রাস্তাটি এখনো কাঁচা। পুরো গ্রামেই এ ধরনের বাড়ি নেই। বাড়ির দরজায় রয়েছে দুটি বড় স্টিলের গেট। দুই বাড়িই দেখতে অনেকটা রাজপ্রাসাদের মতো।

জানা গেছে, নীল রঙের পাঁচতলা বাড়িটির মালিক হেলাল উদ্দিন। পাশের ভবনটির মালিক মোহাম্মদ হোসেন। বাড়ি নির্মাণ থেকে শুরু করে পুরো সময়ই তাদের এলাকার মানুষ খুব একটা দেখেননি। বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক নুরুল আমিন বলেন, বাড়ির মালিক পরস্পর বন্ধু। তারা বর্তমানে ওমানে আছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু তাহের জানান, আসলে আমরাও শুনেছি ইয়াবা ব্যবসা করে। ওরা টেকনাফ থেকে এখানে এসে বাড়ি করেছে। কীভাবে কী করল তেমন কিছু আর জানি না।

কর্নফুলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাসান ইমাম বলেন, হেলালের বিরুদ্ধে এক লাখ ১৫ হাজার ইয়াবা আটকসহ ১৮টি মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক। তবে আইন শৃংখাবাহীনি তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।
সূত্র: আমাদের সময়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *