Monday, April 27বাংলারবার্তা ২১-banglarbarta21
Shadow

ইয়াবা সহ গ্যাং লিডার নাটোরের একটি রেস্তোরা থেকে গ্রেফতার

বার্তা প্রতিনিধি: বহুল আলোচিত নাটোরের সেই গ্যাং লিডার যুবলীগের সদস্য রবিউল আওয়াল বাপ্পীকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে তাকে নাটোর শহর থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। সম্প্রতি বাপ্পীর বিরুদ্ধে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের কর্মকর্তা আব্দুল বাসেদের প্রাইভেট কার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর বাপ্পী ও তার সহযোগীদের ভয়ঙ্কর গ্যাং কার্যক্রম নিয়ে সমকালে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

দৈনকি পত্রিকায় গত ৫ আগস্ট ‘রাজশাহীতে গ্যাং কালচার, নেপথ্যে রাজনৈতিক নেতারা’ শীর্ষক ওই সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর নাটোরের পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। বাপ্পীকে ধরতে সদর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ মাঠে নামে। পুলিশের যৌথ অভিযানের একপর্যায়ে সোমবার রাতে শহরের কানাইখালী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছে থেকে ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

তবে স্থানীয় সূত্র জানায়, বাপ্পী ও তার গ্যাং নাটোরের কানাইখালী এলাকায় অফিস নিয়ে কার্যক্রম চালাতো। এ অফিসই ছিল তাদের টর্চার সেল। চাঁদার জন্য বিশেষ বিশেষ লোককে ধরে আনা হতো এ অফিসে। প্রকাশ্যে এসব অপকর্ম করলেও সরকারদলীয় লোক হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি।

এদিকে গত ৩ আগস্ট শহরের চকরামপুর কামারপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও রাকাব কর্মকর্তা আবদুল বাসেদের ছেলে মেহেদী হাসান বাবু থানায় বাপ্পী ও শাওনসহ তার গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে প্রাইভেট কার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন। কিন্তু বাপ্পী গ্যাং এতই শক্তিধর যে, ওই অভিযোগ দাখিলের এক ঘণ্টার মধ্যে ওই ব্যাংক কর্মকর্তার বাড়ি গিয়ে বাবা-ছেলেকে খুঁজতে থাকে তারা। না পেয়ে তারা একটি মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। ওই ঘটনার পর থেকেই ওই ব্যাংক কর্মকর্তা ও তার ছেলে প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল বাসেদ বলেন, মামলার পর বাপ্পী ও শাওনসহ অন্তত ২০-২৫ জন সন্ত্রাসী সশস্ত্র অবস্থায় বাড়িতে চড়াও হয়। তাদের দেখে আমরা বাবা-ছেলে দু’জনই প্রাণভয়ে গা ঢাকা দিই। তারা চিৎকার করে ছেলে ও আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আমাদের না পেয়ে বাড়িতে রাখা একটি মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় আমার ছেলে বাদী হয়ে বাপ্পী ও শাওনসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করে।

তবে ওই দুটি মামলার কারণে প্রাণনাশের শঙ্কায় আমাদের অধিকাংশ রাত রাজশাহীতে গোপনে কাটাতে হচ্ছে। বাপ্পীকে গ্রেফতারের খবরে স্বস্তি লাগছে। তবে তার প্রধান সহযোগী শাওনসহ অন্যদেরও দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। নাটোর সদর থানার ওসি কাজী জালাল উদ্দিন বলেন, বাপ্পীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ ৭-৮টি মামলা রয়েছে। সোমবার বিকেলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সূত্র: সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *