
বার্তা প্রতিনিধি: দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে দুই মাসের বেশি বন্ধ থাকার পর রোববার ৩১-০৫-২০২০ইং তারিখ থেকে চলবে আন্তঃনগর ট্রেন। প্রথমদিনে আটটি ট্রেন চলবে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে অর্ধেক আসন ফাঁকা রাখা হবে। স্টেশনে ভিড় এড়াতে সব টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে। কাউন্টার থেকে টিকিট দেওয়া হবে না।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!আজ শনিবার রেল ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, রোববার থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের‘সুবর্ণ এক্সপ্রেস’ এবং‘সোনার বাংলা এক্সপ্রেস’, ঢাকা-সিলেট রুটের ‘কালনী এক্সপ্রেস’, ঢাকা-পঞ্চগড় রুটের ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’, ঢাকা-রাজশাহী রুটের ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, ঢাকা-লালমনিরহাট রুটের‘লালমনি এক্সপ্রেস’, ঢাকা-সিলেট রুটের ‘উদয়ন এক্সপ্রেস’ এবং ঢাকা-খুলনা‘চিত্রা এক্সপ্রেস’ চলবে।
আগামী রোববার এইসাব ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ‘বিভাগীয় স্টেশন’ থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবে। ভিড় এড়াতে এখন থেকে বিমানবন্দর ও জয়দেবপুর স্টেশনে কোনো ট্রেন যাত্রা বিরতি করবে না। ঢাকার যাত্রীদের কমলাপুর স্টেশন থেকে উঠানামা করতে হবে। টিকিট ছাড়া কোনো যাত্রী স্টেশনে প্রবেশ করতে পারবে না।
এছাড়া আগামী ৩ জুন থেকে আরো ১১টি আন্তঃনগর ট্রেন চালু হবে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী। এগুলো হলো, ঢাকা-ময়মনসিং–দেওয়ারগঞ্জ রুটের ‘তিস্তা এক্সপ্রেস’, ‘ঢাকা-বেনাপোল রুটের ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’, ঢাকা-চিলাহাটি রুটের ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’, খুলনা-চিলাহাটি রুটের ‘রুপসা এক্সপ্রেস’, রাজশাহী-খুলনা রুটের ‘কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস’, রাজশাহী-গোয়ালন্দ রুটের‘মধুমতি এক্সপ্রেস’, চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটের ‘মেঘনা এক্সপ্রেস’, ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটের ‘কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস’, ঢাকা-নোয়াখালী রুটের ‘উপকূল এক্সপ্রেস’, ঢাকা-ময়মনসসিংহ-জামালাপুর রুটের ‘ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস’ এবং ঢাকা-কুড়িগ্রাম রুটের ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’।
এদিকে শর্ত পালনে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে বাস মালিকরা ভাড়া বাড়ালেও ট্রেনে ভাড়া বাড়বে না বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী। তবে কিছু সুযোগ-সুবিধা কমবে। পাঁচদিন আগে টিকিট কাটা যাবে। বাসের আসন ৫০ ভাগ খালি রাখতে হবে। ভাড়া বাড়বে ৮০ ভাগ।
রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, ট্রেনে খাবার সুবিধা থাকবে না। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় বালিশ কম্বল দেওয়া হবে না।
রেলমন্ত্রী জানান, প্রতিদিন ১০০টি আন্তঃনগর ট্রেন চলে। সীমিত পরিসরে সেবা চালু করায় ১৫ জুন পর্যন্ত মাত্র ১৯টি ট্রেন চলবে। করোনা পরিস্থিতি দেখে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে ট্রেনের সংখ্যা বাড়াবে না কমবে।
এদিকে ট্রেনে কর্তব্যরত কর্মচারীরা অবৈধভাবে যাত্রী তোলায় অর্ধেক আসন খালি রাখার নির্দেশনা মানা সম্ভব কী না তা নিয়ে প্রশ্ন করলে রেলমন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে লোক তুললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনলাইনে শতভাগ টিকিট ছাড়ার কারণে যাদের ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ নেই তারা টিকিট পাবেন না বলে মনে করা হচ্ছে। এর জবাবে রেলের মহাপরিচালক মো. শামসুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, স্টেশনে ভিড় এড়াতেই এ ব্যবস্থা। সব টিকিট অনলাইনে দেওয়ায় ঈদের মতো চাপ হতে পারে। এতে টিকিট কাটতে কিছুটা ভোগান্তি হতে পারে বলেও স্বীকার করেন মহাপরিচালক।

