Monday, June 15বাংলারবার্তা ২১-banglarbarta21
Shadow

গোলাপিকে জীবিত কবর দেওয়ার পরদিন রেল ষ্টেশন থেক উদ্ধার

বার্তা প্রতিনিধি: দেশের রাজশাহীর বাঘায় মবিল মাখানো গোলাপি বেগমের লাশ দাফনের একদিন পর তাকে জীবিত পাওয়া গেছে। বুধবার সকাল ১০টার দিকে আড়ানী রেলস্টেশন থেকে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। গোলাপি বর্তমানে থানা হেফাজতে আছেন। এখন এলাকাবাসীর প্রশ্ন- ওই অজ্ঞাত নারীর লাশটি কার?

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

সূত্রে জানা যায়, ১০ জুন সন্ধ্যায় বাঘা থানা পুলিশ চকবাউসা গ্রামের ভুট্টাক্ষেত থেকে মুখে মবিল মাখানো অজ্ঞাত পরিচয় (৪৫) এক নারীর লাশ উদ্ধার করে। পর দিন মঙ্গলবার ওই লাশের পরিচয় মেলে। তিনি উপজেলার আড়ানী পৌরসভার পাঁচপাড়া গ্রামের বাক প্রতিবন্ধী মনির হোসেনের স্ত্রী গোলাপি বেগম বলে স্বজনরা শনাক্ত করেন।
বুধবার সকাল ১০টায় আড়ানী রেলস্টেশন থেকে গোলাপি বেগমকে জীবিত উদ্ধার করে আড়ানী ইউনিয়ন পরিষদে আনা হয়। সেখানে গোলাপি বেগমের মামা শাকিব হোসেন, শাশুড়ি মরিয়ম বেগম, ভাসুর মাজদার রহমান, জা সাজেদা বেগমের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে আসল গোলাপি বেগমকে শনাক্ত করা হয়। তার জাতীয় পরিচয়পত্রে নামের সঙ্গে মিল আছে। পরে চেয়ারম্যান গোলাপি বেগমসহ উভয় পরিবারকে থানায় পাঠিয়ে দেন।

তবে এ বিষয়ে গোলাপি বেগম বলেন, ‘ঈদের আগে ২৯ মে রুস্তমপুর হাটে ৪২ হাজার টাকায় একটি গরু বিক্রি করি। এ টাকা নেওয়ার জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকজন চাপ দিতে থাকে। আমি নিরুপায় হয়ে পরদিন বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাজশাহীর এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাই। আমি ছয় বছরের সন্তান মারুফ হোসেন ও পেটের ৫ মাসের সন্তানের কথা ভেবে বুধবার সকালে রাজশাহী থেকে মহানন্দা ট্রেনে আড়ানী স্টেশনে আসি। এ সময় স্থানীয় কিছু মানুষ আমাকে চিনতে পেরে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসে। সেখান থেকে থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে গোলাপি বেগমের ভাসুর মাজদার রহমান বলেন, ‘গোলাপি বেগম বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে আমি বাদী হয়ে ১ জুন বাঘা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। মুখে মবিল মাখানোর কারণে সঠিকভাবে লাশটি চিনতে পারিনি।’

পৌর নারী কাউন্সিলর ও পাঁচপাড়া গ্রামের মর্জিনা বেগম বলেন, প্রায় চার মাস আগে গোলাপি বেগম ছয় বছরের ছেলে সন্তান মারুফ হোসেনকে রেখে এক যুবকের সঙ্গে ঘর ছেড়ে চলে যায়। গোলাপি বেগমের স্বামী বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা পুনরায় তাকে বুঝিয়ে স্বামীর বাড়িতে আনে। গোলাপি বেগমের শ্বশুর বিচ্ছাদ আলী বলেন, ‘আমার ছেলে বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় গোলাপি নিজের ইচ্ছামতো চলাফেরা করে। আমরা প্রতিবাদ করলে আমাদের বিভিন্ন কথা শোনায়।’

তবে আড়ানী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, ‘গোলাপি বেগমসহ উভয়পক্ষ আমার কাছে আসলে, তাদের থানায় পাঠাই। তবে আত্মীয়-স্বজনের কাছে জেনে এবং তার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে মনে হয়েছে, তিনি আসল গোলাপি।’

এদিকে বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসীন আলী জানান, উদ্ধারকৃত লাশটি ভুলভাবে তার আত্মীয়রা শনাক্ত করেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে তাদের পারিবারিক গোরস্তানে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দাফন করা হয়। এ বিষয়ে একটি মামলাও হয়েছে। তবে উদ্ধারকৃত লাশের মুখে পোড়া মবিল দেওয়া ছিল। এছাড়া লাশের পাশ থেকে একটি কালো বোরকা, এক জোড়া সেন্ডেল, একটি গুলের কৌটা পাওয়া যায়। লাশের গলা ওড়না দিয়ে পেঁচানো ছিল। এখন গোলাপি বেগম থানা হেফাজতে আছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

তবে ওসি আরও বলেন, ‘অন্য জায়গায় ওই নারীকে হত্যা করে চকবাউসা গ্রামের ওই ভুট্টাক্ষেতে লাশ ফেলে রাখা হয়। প্রকৃতপক্ষে অজ্ঞাত নারীর লাশ শনাক্ত করা যায়নি। তবে আমাদের কাছে ছবি ও আলামত আছে, সেগুলো দেখে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি তদন্ত শুরু করেছেন বলে জানান।
সূত্র: বিডি প্রতিদিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *