
আওয়ামীলীগের উন্নয়নের কয়েকটি বিষয়ের দিকে নজর দিচ্ছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। চর্তুথবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। শপথ গ্রহণের পর থেকেই দেশের উন্নয়নে দুর্নীতি, মাদক, জঙ্গিবাদ ও শিক্ষার ক্ষেত্রে নকল রোধ করাসহ ৪টি বিষয়ের প্রতি বিশেষ নজর রাখছেন তিনি। তারই নির্দেশনায় এরই মধ্যে শিক্ষা, অর্থ, আইন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বেশ কয়েক মন্ত্রী দুর্নীতি, মাদক ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স দেখানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সকল এমপিসহ প্রতিটি সেক্টরের দায়িত্বে থাকা সকলকেই বিশেষ নজরে রাখছে ক্ষমতাসীন দলের হাইকমান্ড। তবে এবার জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলার বিষয়ে তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী-এমনটাই দৈনিক মানবকণ্ঠকে জানিয়েছেন দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!দলীয় সূত্র জানায়, এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের পাশাপাশি সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও মাদক নির্মূলের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে সরকারি দলটি। সেই লক্ষ্যে ৭ জানুয়ারি নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতি ও মাদক নির্মূলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই অপরাধের (দলীয় নেতাকর্মী) সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের কঠিন হাতে মোকাবিলা করতে সোচ্চার সরকার। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’ কারো বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বলেছেন, বিগত দশ বছরে দেশে যে উন্নয়ন এবং অগ্রগতি হয়েছে, সেটাকে এগিয়ে নিতে দুর্নীতি বন্ধের বিকল্প নেই। একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতি বন্ধ করতে না পারলে উন্নয়নের সুফল জনগণ পাবে না। এ কারণেই দুর্নীতি এই সরকারের প্রধান টার্গেট। পাশাপাশি মাদকের ছোবলে আমাদের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট হোক তা কোনোভাবেই এই সরকার হতে দেবে না। মাদক নিয়ন্ত্রণ, মাদকের অবৈধ ব্যবসা ও চোরাচালান বন্ধে সরকার নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।’
আগামী ২৯ জানুয়ারি সংসদীয় দলের বৈঠকে এ সংক্রান্ত রূপরেখা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। গত ২০ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাজের প্রশংসা করে বলেন, ‘প্রযুক্তির সহায়তায় গোয়েন্দা সংস্থা ভালো কাজ করছে। সম্প্রতি জঙ্গিবাদ ও মাদক নির্মূলে তারা যথেষ্ট সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘কর্মকর্তাদের বেতন বাড়ানো হয়েছে; করা হয়েছে আবাসনের ব্যবস্থা। তাই কোনো ধরনের দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।’
এরই মধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বনের ঘোষণা দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। এই নীতি অবলম্বন করে নিজের মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সিলেটে পৌঁছে হযরত শাহজালাল (র.) মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। বন সংরক্ষণ ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন প্রসারে কাজ করার অঙ্গীকার করে মন্ত্রী বলেন, ‘সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়েই জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করব।’
একইদিন নিজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, জোর-জুলুম খাটিয়ে বা প্রতারণার আশ্রয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ দখল বন্ধ করা হবে। রাষ্ট্রের সম্পদ অবৈধভাবে বা ঠুনকো আদালতের আদেশ নিয়ে বা দুর্বৃত্তপনা করে বা রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে দখলের মতো ‘রাম রাজত্ব’ কায়েম করতে দেয়া হবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্সের’ কথা উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক করে দেন তিনি।
একই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। ক্রীড়াঙ্গনে দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর পাশাপাশি এনএসসিকে একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে শিল্পমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, ‘সবার সমবেত প্রচেষ্টায় মন্ত্রণালয়ের সব টার্গেট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্জন করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের শাসক নন, সেবক এ কথাটি মনে রাখলে সব কাজ সহজে সম্পাদন করা সম্ভব হবে।’ তিনি বলেন, ‘জনগণকে দেয়া আমাদের অঙ্গীকারসমূহ পূরণ করতে হবে। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘অপকর্মকারীরা অপকর্মের জন্য চেষ্টা করবে। কিন্তু আপনারা (অভিভাবকরা) যদি সেই প্রশ্নপত্র পাওয়ার আগ্রহ না দেখান, তবে তারা লাভবান হবে না। আমরা সবাই মিলে এ প্রক্রিয়াটি সুন্দর, সফল ও ত্রুটিমুক্ত করতে চাই।’ মন্ত্রী বলেন, ‘ক্লাসে প্রথম, জিপিএ-৫ পাওয়া জরুরি কিন্তু একমাত্র নয়। ভালো মানুষ, সুনাগরিক হওয়া জরুরি। সোনার মানুষ লাগবে। এর জন্য শুধু জিপিএ-৫ পেলে হবে না, সুস্থ মানুষ চাই, ইতিহাস-সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও বঙ্গবন্ধুর জীবন জানা চাই। পাশাপাশি মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদমুক্ত সমাজ গড়তে হবে। এ ক্ষেত্রে খেলাধুলার বিকল্প নেই। আমাদের মেয়েরা বিশ্ব মাত করছে। ছেলেরাও পারবে।’ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপ-মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল মানবকণ্ঠকে বলেন, ‘শিক্ষা থেকে নকল রোধ করার জন্য সরকার অনেক কাজ করছে। নকল রোধ করার জন্য আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি।
সূত্র: মানবকণ্ঠ

