Monday, June 22বাংলারবার্তা ২১-banglarbarta21
Shadow

ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ

শেখ তানহা, বার্তা প্রতিনিধি: আজকরে দিন হলো ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস। প্রতি বছর ২৪শে জানুয়ারী বাংলদেশের আপামর জনসাধারন এই দিনটিকে পালন করে থাকেন। আগরতলা মামলায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সব ব্যবস্থাই করে ফেলেছিল পাকিস্তানের সামরিক একনায়ক আইয়ুব খান। তখন জাগ্রত ছাত্র সমাজ ফুঁসে উঠেছিল। ১৯৬৯ এর ১৭ জানুয়ারি সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তুলে শোষিত মানুষের পক্ষে মুক্তিকামী ছাত্রসমাজ ১১ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করে। ঊনসত্তরের ২০ জানুয়ারি শহীদ আসাদের রক্তের সিঁড়ি বেয়ে সারাদেশে আন্দোলনের আগুন জ্বলে ওঠে। তাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এক তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফা, পরবর্তীতে ১১ দফা ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পথ বেয়ে রক্তাক্ত সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতি অর্জন করে মহান স্বাধীনতা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ঔপনিবেশিক পাকিস্তানি শাসন, শোষণ ও বঞ্চনা থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করতে ঐতিহাসিক ৬ দফা ঘোষণা করেন। এতে স্বাধিকার আন্দোলনের গতি তীব্রতর হয়। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আন্দোলনকে নস্যাত করার হীন উদ্দেশে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে বঙ্গবন্ধুকে বন্দি করে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

এ মামলার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ছাত্র-শ্রমিক-জনতা দুর্বার ও স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন গড়ে তোলে। পাকিস্তানি সামরিক শাসন উৎখাতের লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের এ দিনে সংগ্রামী জনতা শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়ন ও সান্ধ্য আইন ভঙ্গ করে মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণে নিহত হন নবকুমার ইনস্টিটিউশনের নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর রহমান। আর শহীদ আসাদের আত্মদানের পর ২১, ২২ ও ২৩ জানুয়ারি শোক পালনের মধ্য দিয়ে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে গণঅভ্যুত্থানের সৃষ্টি হয় এই দিনে। শোষিত মানুষের পক্ষে মুক্তিকামী ছাত্রসমাজের ১১ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মাইলফলক গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যার অন্ধকার নেমে আসার আগেই ক্ষুব্ধ জনতার উত্তাল সংগ্রামের মুখে গণঅভ্যুত্থান ঘটে। ’৬৯-এর ২৪ জানুয়ারির ঝলমলে শীতের সকালটি আমাদের জীবনে অবিচল সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল।

জনতার রুদ্ররোষ এবং গণঅভ্যুত্থানের জোয়ারে স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান অভিযুক্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকলকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। পতন ঘটে আইয়ুবের স্বৈরতন্ত্রের। অপশাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামে তাই ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান আজও দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। এদিকে দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

কর্মসূচি: ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানের ৫০ বছর পালন জাতীয় কমিটির উদ্যোগে ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানের কিশোর শহীদ মতিউরের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মতিউরের স্কুল পুরানো ঢাকার নবকুমার ইনস্টিটিউটে মতিউরের স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হবে। সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জমায়েত হয়ে মিছিল সহকারে যাওয়া হবে নবকুমার ইনস্টিটিউটে।

বিকেলে ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানের ৫০তম বার্ষিকী জাতীয় কমিটির উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে (সড়ক দ্বীপে) আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। জাতীয় কমিটির সমন্বয়ক সাইফুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেবেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, খালেকুজ্জামান, মুবিনুল হায়দার চৌধুরী, টিপু বিশ্বাস, ডা. ফয়জুল হাকিম, জোনায়েদ সাকি, মোশাররফ হোসেন নান্নু, মোশরেফা মিশু, হামিদুল হক, নতুন কুমার চাকমা, শামসুজ্জামান মিলন ও শহীদ আসাদের বড় ভাই রশিদুজ্জামান। আলোচনা সভার পর অনুষ্ঠিত হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সূত্র: মানবকণ্ঠ

2 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *