Saturday, May 9বাংলারবার্তা ২১-banglarbarta21
Shadow

বঙ্গবন্ধু ট্যানেল উদ্ভোদনে আজ চট্টগ্রাম আসছেন প্রধান মন্ত্রী

বার্তা প্রতিনিধি: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আজ এই পথমবার প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল এবং চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের মুল কাজের উদ্বোধন করতে আসছেন চট্টগ্রামে। ৩য়বার সরকার গঠনের পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চট্টগ্রাম সফর। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি পতেঙ্গার সাগর পাড়ে নির্মিত ব্যতিক্রমী মঞ্চে পৌঁছবেন। পতেঙ্গার সাগরপাড়কে ঘিরে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পও প্রধানমন্ত্রী দেখবেন।
সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত দেশের প্রথম টানেলের বোরিং কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। কর্ণফুলীর তলদেশে নির্মাণাধীন প্রায় দশ হাজার কোটি টাকার এই টানেল উপমহাদেশের কোন নদীর তলদেশে প্রথম টানেল।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের দৈর্ঘ্য হবে ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার।
নদীর তলদেশ দিয়ে দুটি টিউবে চারলেন টানেল সড়ক নির্মাণ করা হবে। টানেলের পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ে সাড়ে ৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক থাকবে। উভয় পাশের সংযোগ সড়কসহ মোট দৈর্ঘ্য হবে ৯ দশমিক ৩৩ কিলোমিটার। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির ২৪ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে উল্লেখ করে সূত্র বলেছে, বাইরের কাজ প্রায় গুছিয়ে আনার পর টানেলের মূল বোরিং কাজ শুরু করা হচ্ছে। কর্ণফুলী নদীর তলদেশের মাটি থেকে কমপক্ষে ৩৬ ফুট থেকে ১০৮ ফুট পর্যন্ত গভীরে গিয়ে বোরিং করে পৃথক দুইটি টিউব স্থাপন করে টানেল নির্মাণ করা হবে। একেকটি টিউবের চওড়া হবে ৩৫ দশমিক ৪৩ ফুট এবং উচ্চতা হবে ১৫.৭৪ ফুট। একটি টিউবে দুটি স্কেল বসানো থাকবে, সেই স্কেল দিয়ে দুই লেনে গাড়ি চলাচল করবে। একই রকমভাবে পাশে অপর একটি টিউব থাকবে। দুটি টিউবের মাঝে কমপক্ষে ৩৬ ফুটের ব্যবধান থাকবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, টানেল বোরিং মেশিন (টিবিএম) তিনতলা ভবনের সমান উচ্চতার। এটি গত জুলাই মাসে চীন থেকে আনা হয়। পৃথক অংশে ভাগ করে আনা এই মেশিন কর্ণফুলী নদীর পাড়ে পুনরায় জোড়া লাগিয়ে স্থাপন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে টিবিএম মেশিনের পরীক্ষা নিরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কম্পিউটারের কী বোর্ড টিপে এই মেশিনের সাহায্যে নদীর তলদেশের বোরিং কাজের উদ্বোধন করবেন। কর্ণফুলীর এ পাড়ে নেভাল একাডেমির পাশ থেকে নদীর অপর পাড়ের সিইউএফএল এবং কাফকোর মাঝ বরাবর গিয়ে টানেল উঠবে। এই টানেলই চট্টগ্রামকে চীনের সাংহাইয়ের আদলে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ গড়ে তোলার অপার এক সম্ভাবনা তৈরি করবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দৈনিক আজাদীকে জানান, এই টানেল দিয়ে প্রথম বছরই ৬৩ লাখ গাড়ি চলাচল করবে। চালুর তিন বছর পর ওই সংখ্যা দাঁড়াবে ৭৬ লাখে। প্রথম বছরের ৬৩ লাখ গাড়ির মধ্যে ৫১ শতাংশ হবে কন্টেনারবাহী ট্রেইলর এবং বিভিন্ন ধরনের ট্রাক ও ভ্যান। বাকি ৪৯ শতাংশের মধ্যে ১৩ লাখ বাস, মিনিবাস ও মাইক্রোবাস এবং ১২ লাখ কার, জিপ ও বিভিন্ন ছোটগাড়ি চলাচল করবে। গাড়ির সংখ্যা প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাবে। পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এই টানেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, যা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সাথে দক্ষিণ চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকার যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে এই টানেলই চীনের সাথে প্রস্তাবিত যোগাযোগের নিয়ামক হয়ে উঠবে। এই টানেল চট্টগ্রামের যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনই কেবল সাধন করবে না, একই সাথে বিশ্বে বিনিয়োগ বাজারে চট্টগ্রামকে ভিন্নমাত্রার উচ্চতাও দান করবে।
চট্টগ্রাম মহানগরীর যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের গতিশীলতা তৈরী করতে গ্রহণ করা এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজও প্রধানমন্ত্রী আজ উদ্বোধন করবেন। প্রায় চার হাজার কোটি টাকার ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ের পাইলিং কাজের সূচনা করা হবে আজ। এই প্রকল্পটিও নগরীর যান চলাচলের ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, টানেল এবং এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসবে। যা চট্টগ্রামের শিল্পায়ন, বিনিয়োগ এবং পর্যটনসহ নানা ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।
এই দুইটি মেগা প্রকল্পের মুল কাজের উদ্বোধন করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে প্রধান মন্ত্রী আর বিশেষ ফ্লাইটে চট্টগ্রাম আসবেন। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি সড়ক পথে নিকটস্থ টানেল এলাকায় যাবেন। ওখানে টানেলের বোরিং কাজ উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ে উদ্বোধন করবেন। এখান থেকে প্রধানমন্ত্রী টানেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চায়না কনস্ট্রাকশন কোম্পানির তৈরি করা রেস্ট হাউজে গিয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেবেন। পরে পতেঙ্গা সাগরপাড়ে নির্মিত ব্যতিক্রমী এক আয়োজনের সুধী সমাজে প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। পতেঙ্গার সাগর পাড়ে উন্মুক্ত আকাশের নিচে নৌকার আদলে ৪৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৮ ফুট প্রস্থের নান্দনিক একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। মঞ্চে বসে প্রধানমন্ত্রী অনুভব করবেন খোলা হাওয়া। সাগরও দেখা যাবে মঞ্চ থেকেই। দেখবেন পতেঙ্গা বিচে সিডিএর গড়ে তোলা নানা নান্দনিক আয়োজন। আউটার রিং রোডের লাগোয়া যেই ৫ কিলোমিটার এলাকায় সিডিএ প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বিশেষ ট্যুরিস্ট স্পট গড়ে তুলতে যাচ্ছে তাও প্রধানমন্ত্রীকে দেখানো হবে মঞ্চ থেকে। সাগরপাড়ের রঙিন ছাতা কিংবা সিমেন্ট দিয়ে নির্মিত নানা রঙের টুলগুলোও আলাদা নান্দনিকতা ছড়াচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবই উপভোগ করবেন মঞ্চ থেকে। সুধী সমাবেশে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শোনানোর জন্য সাউন্ড বঙের পাশাপাশি প্রজেক্টরও বসানো হয়েছে। সমাবেশে মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিদেশী কূটনৈতিকবৃন্দ, দলীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
সূধী সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী আবারো রেস্টহাউজে যাবেন। ওখানে নামাজ আদায় এবং দুপুরের খাবার খেয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেবেন। বিকেল তিনটায় প্রধানমন্ত্রী বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকা ফিরে যাবেন। প্রধান মন্ত্রীর আগমনে আজ চট্টগ্রাম এক অনন্য সাজে সাজানো হয়েছে।
সূত্র: আজাদী

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *