Saturday, June 13বাংলারবার্তা ২১-banglarbarta21
Shadow

স্বাস্থ্যসবো ও সুরক্ষা আইন হচ্ছে অফিস সময়ে ব্যাক্তিগত চেম্বারে গেলে জরিমানা

বার্তা কক্ষ: সরকারী হাসপাতালে চাকুরীরত ডাক্তাররা অফিস সময়ে কোন বেসরকারী হাসপাতাল বা নিজস্ব চেম্বারে গেলে শাস্থির বিধান করে মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যসবো ও সুরক্ষা আইন হচ্ছে। জানা যায় সরকারি চাকরিতে কর্মরত কোনো চিকিৎসক অফিস সময়ে বেসরকারি হাসপাতাল বা ব্যক্তিগত চেম্বারে চিকিৎসা দিতে পারবেন না। অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে এক লাখ টাকা এবং বেসরকারি হাসপাতাল বা প্রতিষ্ঠানকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হবে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

এমনকি ছুটির দিনে চিকিৎসকদের নিজ নিজ কর্মস্থলের জেলার বাইরে বেসরকারি হাসপাতালে বা ব্যক্তিগত চেম্বারে টাকার বিনিময়ে সেবা দিতেও সরকারের অনুমতি নিতে হবে। কর্তৃপক্ষ যে কোনো সময় জনস্বার্থে সেই অনুমতি প্রত্যাহারও করতে পারবে।

এমন সব বিধান রেখে ‘স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন-২০১৯’-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। প্রস্তাবিত আইনটির মতামতের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে এবং অনুমোদনের জন্য শিগগিরই মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

প্রস্তাবিত আইনটির আগে নাম ছিল ‘রোগী সুরক্ষা আইন’। ওই খসড়ায় বলা ছিল, অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় মামলা করা যাবে। কিন্তু বর্তমান খসড়ায় এই অংশটুকু বাদ দেয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত খসড়ায় বলা হয়েছে, বেসরকারি কোনো হাসপাতাল, স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র সরকারি চাকরিতে কর্মরত কোনো ব্যক্তিকে অফিস সময়ে সেবা প্রদানের জন্য নিয়োগ করতে পারবে না।

সরকারি চাকরিতে কর্মরত চিকিৎসক নির্ধারিত অফিস সময়ে বেসরকারি হাসপাতালে বা ব্যক্তিগত চেম্বারে চিকিৎসাসেবা দিলে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে।

একইভাবে কোনো বেসরকারি হাসপাতাল বা প্রতিষ্ঠান সরকারি ডাক্তারকে তার প্রতিষ্ঠানে রোগী দেখার সুযোগ দিলে ওই প্রতিষ্ঠান বা মালিককে ৫ লাখ টাকার অর্থদণ্ড বা তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হবে।

এতে বলা হয়, সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনমূলে সরকারি হাসপাতাল প্রদত্ত সেবা এবং রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার চার্জ বা মূল্য বা ফি পৃথকভাবে নির্ধারণ করবে। চিকিৎসকের ফি, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা-নিরীক্ষার চার্জ বা মূল্য বা ফি’র তালিকা হাসপাতালের বা চেম্বারের দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। চিকিৎসাসেবা বাবদ আদায়কৃত চার্জ বা মূল্য বা ফি রসিদের মাধ্যমে আদায় করতে হবে।

সেবাগ্রহীতা বা তার অভিভাবককে ওই রসিদের অনুলিপি প্রদান করতে হবে। ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগীর চিকিৎসা করানোর ক্ষেত্রে রোগ পরীক্ষার ন্যূনতম চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকতে হবে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ডিপ্লোমা বা ডিগ্রি ছাড়া অন্য কোনো ডিগ্রির বিবরণ সাইনবোর্ড বা নামফলক বা ভিজিটিং কার্ডে উল্লেখ করা যাবে না। ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ও ভিজিটিং কার্ডে বিএমডিসির নিবন্ধন নম্বর লেখা থাকতে হবে। মহিলা রোগীর পরীক্ষার জন্য মহিলা নার্স বা সহায়ক থাকতে হবে। তবে জটিল পরিস্থিতিতে যৌক্তিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই শর্ত শিথিলযোগ্য।

স্বাস্থ্যসেবাদানকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি সহিংস কাজ করলে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে।

সে ক্ষেত্রে সেবাদানকারী ও প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পত্তির ক্ষতিসাধন, বিনষ্ট করা, ধ্বংসের মতো অপরাধের শাস্তি তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

বেসরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে জরুরি সেবা প্রদানের ব্যবস্থা না থাকলে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম শাস্তি ভোগ করতে হবে।

চিকিৎসা কেন্দ্রে যদি রোগীর বসার স্থান না থাকে তা হলে ডাক্তারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। সেবাগ্রহীতাকে টাকার রসিদ না দিলে বা সার্ভিস চার্জ মূল্য হাসপাতালে সংরক্ষণ করা না হলে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড হবে।

এই আইনের যে কোনো ধারা লঙ্ঘন করলে বা লঙ্ঘনে প্ররোচনা দিলে বা সহযোগিতা করলে দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের ২ লাখ টাকা জরিমানা এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

খসড়া অনুসারে, রোগী ও রোগীর স্বজনদের চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে। প্রয়োজনে রোগীকে বিকল্প চিকিৎসা দিতে হবে এবং তা রোগীর স্বজনদের জানাতে হবে। চিকিৎসাকালীন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, চিকিৎসা পদ্ধতি এবং অস্ত্রোপচারের জটিলতা রোগীর স্বজনদের জানাতে হবে। চিকিৎসা ব্যয় অর্থাৎ কোন খাতে কত ব্যয় হবে তা রোগীর স্বজনদের জানাতে হবে। চিকিৎসা দেয়ার অনুমতি নিতে হবে।

প্রত্যেক রোগীর চিকিৎসা মানসম্মত হতে হবে অর্থাৎ কারও জন্য বিশেষ সেবা আর কারও জন্য সাধারণ সেবা দেয়া যাবে না। সব রোগীকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। রোগীর তথ্য রোগীর অনুমতি ছাড়া কাউকে দেয়া যাবে না।

তবে এইচআইভি রোগীর তথ্য স্বামীর হলে স্ত্রীকে এবং স্ত্রীর হলে স্বামীর কাছে প্রকাশ করা যাবে। রোগের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস, পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল, অনুমিত রোগ, চিকিৎসা এবং শল্য চিকিৎসার যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত সঠিকভাবে লিখে রাখতে হবে। রোগীর মৃত্যুর কারণ জানা না থাকলে মৃত্যু সনদ দেয়া যাবে না।

বিদেশি ডাক্তার সরকারের পূর্বানুমতি নিয়ে নিয়োগ দেয়া যাবে। বিদেশি আংশিক বা সম্পূর্ণ অর্থায়নে হাসপাতাল স্থাপন করা যাবে। সে ক্ষেত্রে বৈদেশিক বিনিয়োগ সংক্রান্ত সব বিধিবিধান মানতে হবে।

সন্দেহজনক মৃত্যু, আত্মহত্যা, বিষ প্রয়োগে হত্যা, বেআইনি গর্ভপাত, অগ্নিদগ্ধ হওয়া, দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিসহ এ ধরনের ঘটনা প্রমাণিত হলে চিকিৎসক বা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান পুলিশকে অবহিত করতে বাধ্য থাকবে।
সূত্র: যুগান্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *