
৯ দলীয় জোট গঠনের উদ্যোগ
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!জুলাই সনদকে ঘিরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ মোট ৯টি রাজনৈতিক দল ঘনিষ্ঠ অবস্থানে এসেছে এবং জোট গঠনের আলোচনায় রয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতও নিজেদের বলয় গড়ে তুলছে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে। একই কারণে এই ৯ দলের মধ্যেও একাধিক দল একীভূত হওয়ার আলোচনা করছে।
তবে জোট করলে বিএনপি নাকি জামায়াতের বলয়ে যাবে—এই প্রশ্নে ৯ দলের মধ্যে প্রাথমিক মতবিনিময় চলছে। বিশেষত কয়েকটি বামপন্থি দল জামায়াতের সঙ্গে যেতে নারাজ। তারা প্রত্যাশিত আসন পেলে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতায় বেশি আগ্রহী।
আরো জানতে পড়ুন: ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের নিবন্ধিত দল ও স্বতন্ত্রের জন্য ১১৫টি প্রতীক বরাদ্ধ নেই এনসিপির শাপলা
এই উদ্যোগে যুক্ত দলগুলো হলো—এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টি এবং গণতন্ত্র মঞ্চের ছয় শরিক: জেএসডি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও ভাসানী জনশক্তি পার্টি।
বিএনপি ও জামায়াতের অবস্থান
বিএনপি আগেই ঘোষণা দিয়েছে, গণতন্ত্র মঞ্চের শরিকদের সঙ্গে যৌথভাবে নির্বাচন করবে এবং জোট জয়ী হলে সরকার গঠন করবে। তবে জুলাই সনদ ইস্যুতে গণতন্ত্র মঞ্চ বিএনপির থেকে ভিন্ন অবস্থানে আছে। তারা প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) ভিত্তিক উচ্চকক্ষ, সনদের আইনি ভিত্তি এবং সাংবিধানিক সভার মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার চায়। এ অবস্থান এনসিপি, এবি পার্টি ও গণঅধিকারের কাছাকাছি।
অন্যদিকে বিএনপি উচ্চকক্ষে পিআরের বিরোধী। তারা মনে করে পরবর্তী সংসদ থেকেই সংস্কার বাস্তবায়ন হতে হবে। জামায়াত ও তাদের সঙ্গে থাকা সাত দল নির্বাচন পূর্বে সাংবিধানিক আদেশ ও গণভোটের মাধ্যমে সংস্কার কার্যকর করার পক্ষে।
আরো জানতে পড়ুন: রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল গ্রেফতার ২৪৮
আসনকেন্দ্রিক হিসাব-নিকাশ
একটি দলের প্রধান স্বীকার করেছেন, আসন বণ্টন নিয়ে অনিশ্চয়তাই তাদের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। আলাদা থাকলে বিএনপি কিংবা জামায়াতের সঙ্গে দরকষাকষিতে সুবিধা পাওয়া সম্ভব নয়। তবে একসঙ্গে থাকলে বেশি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
তবে জোট গঠনের প্রক্রিয়া সহজ নয়। কারণ, কয়েকটি বাম দল জামায়াতের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় যেতে চাইছে না। আবার এনসিপি তাৎক্ষণিকভাবে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতায়ও আগ্রহী নয়। ফলে পারস্পরিক সন্দেহ ও টানাপোড়েন থেকেই যাচ্ছে।
এনসিপি–গণঅধিকারের একীভূত হওয়ার আলোচনা
এনসিপি ও গণঅধিকারের একীভূত হওয়ার আলোচনাও চলছে, যদিও তা আটকে আছে নেতৃত্ব ও পদবণ্টন নিয়ে। গণঅধিকার চাইছে নুরুল হক নুরকে প্রথম সভাপতি এবং নাহিদ ইসলামকে পরবর্তী মেয়াদের সভাপতি করা হোক। কিন্তু এনসিপি এর বিরোধিতা করছে। তারা প্রস্তাব করেছে নুরের পদ থাকবে নির্বাহী আহ্বায়ক বা অনুরূপ কোনো ভূমিকায়।
আরো জানতে পড়ুন: বিশ্ব ফার্মসিস্ট দিবস আজ হসপিটালগুলোতে নেই গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নেই কোন নজরদারীও
তবে উভয় দলের নেতারা স্বীকার করছেন, সমআদর্শের দুটি দল আলাদা থাকায় দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। একীভূত হলে শক্তিশালী হওয়া সম্ভব।
বিকল্প জোট হওয়ার সম্ভাবনা
বিএনপির সঙ্গেই ১২ দলীয় জোট, ১১ দলীয় জোট, এলডিপি, এনডিএম, বিজেপি ও লেবার পার্টির মতো বিভিন্ন দল ইতিমধ্যে যুক্ত হয়েছে। আবার কয়েকটি ইসলামি দলও বিএনপির পাশে থাকার আগ্রহ জানিয়েছে। তবে জুলাই সনদ ইস্যুতে ভিন্ন অবস্থান নেওয়ায় এবং জামায়াতের কর্মসূচিতে একসঙ্গে ওঠায় গণঅধিকার পরিষদকে বিএনপি তাদের আসন ছাড়ের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ৯ দলের মধ্যে আলোচনা চলছে—তারা কি কেবল বিএনপি বা জামায়াতের বলয়ে যাবে, নাকি নিজেদেরকে বিকল্প জোট হিসেবে দাঁড় করাবে। নেতাদের মতে, এটাই এখন বড় প্রশ্ন।

