
ধর্মীয় ভাবে শিক্ষা, ইসলামী দাওয়াহ ও উম্মাহর কল্যানে বিস্তৃত কাজ করার লক্ষ্যে এবং Emprweting The Ummah Through Education এই শ্লোগানকে ধারণ করে ড. মিজানুর রহমান আজহারীকে চেয়ারম্যান করে প্রতিষ্ঠিত হলো ”হাসানাহ ফাউন্ডেশন”। এছাড়া ফাউন্ডেশনের মূল বিষয় হলো শিক্ষা শুধু জীবিকা অর্জনের পথ নয় বরং এটা মানুষ হওয়ার অনন্য শিল্প, যা আলোকিত করে মন ও সমাজ দুটোই। সকলের দোয়া ভালোবাসা সহযোগীতা ও সু-চিন্তিত পরামর্শ কামনা করে শুভ উদ্ভোধন করা হয় হাসানাহ ফাউন্ডেশন। হাসানাহ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার শুরুতেই ফাউন্ডেশন কতৃক আয়োজিত সিরাত অলিম্পিয়ার্ড ২০২৫ এর পুরুস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালিন সরকারে ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আফম খালিদ হোসেন। উক্ত ফাউন্ডেশনের শুভ উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে দেশবরেন্য প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলারগণ উপস্থিত ছিলেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্যে আমাদের একমাত্র আদর্শ রাসুল (স:) প্রবন্ধ মূলক বক্তব্য রাখেন প্রভাষক জান্নাতুন নাঈম, প্রতিযোগীদের নিয়ে বক্তব্য রাখেন মুহাদ্দিস মাহমুদুল হাসান, প্রতিভাবান একজন প্রতিযোগীকে নিয়ে গল্পকার উপস্থাপন করেন শায়খ সিফাত হাসান, পরবর্তী কুরআন ও হাসিদ অলিম্পিয়ার্ড নিয়ে বক্তব্য রাখেন মো: মনিরুল ইসলাম, হাসানাহ ফাউন্ডেশ নিয়ে ভবিৎষত আশাবাদ ব্যক্ত করেন কারি হাবিবুল্লাহ বেলালী, রাসুল (স:) এর অনুসরনেই উম্মাহর বিষয় নিহিত এই নিয়ে প্রবন্ধ মূলক বক্তব্য রাখেন উস্তায হাবিবুল্লাহ মুহাম্মদ ইকবাল, আগামীর সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন শাউখ ফখরুদ্দিন আহমাদ, ফাউন্ডেশনের মিশন সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন শাইখ নাসিরুদ্দিন হেলালী, ফাউন্ডেশনের মূল বিষয়গুলো এক অনন্য আইডিয়া এই নিয়ে বক্তব্য রাখেন শায়খ আব্দুল হাই মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ, সিরাত চর্চার তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন শায়খ ড. আবুল কালাম আজাদ, প্রতিযোগীদেরকে নির্ধারিত ফরম্যাটের বাহিরেও প্রশ্ন করে যে অভিজ্ঞতা সম্মুখিন হয়েছে তা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন সিরাত অলিম্পিয়ার্ড এর বিচারক শায়খ রেজাউল করিম আবরার, সিরাত অনুধাবনের মেথডোলজি নিয়ে আলোচনা করেন শায়খ মোখতার আহমাদ।
এছাড়া প্রধান অতিথি ধর্ম উপদেষ্টা আফম খালিদ হোসেন একজাঁক দেশবরেন্য প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলারগণের সমন্বয়ে গঠিত হাসানাহ ফাউন্ডেশেন ভূয়সী প্রশংসা করেন।
প্রায় ২০ হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে থেকে জ্ঞানের তুমুল লড়াই শেষে স্বতন্ত্র গ্রæপ থেকে মোট ৩০ জন প্রতিযোগীকে অনুষ্ঠানে পুরুস্কৃত করা হয়। এতে প্রত্যেক গ্রæপের জন্য উমরাহ প্যাকেজ, ল্যাপটপ, ট্যাব, ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট, মূল্যবান বই ও প্রাইজমানিসহ সর্বমোট প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার পুরুস্কার প্রদান করা হয়।
বক্তার আরো বলেন সিরাত অলিম্পিয়ার্ড ২০২৫ হাসানাহ ফাউন্ডেশনের পরিকল্পনায় থাকা অসংখ্য প্রজেক্টের মধ্যে অলিম্পিয়াড ইভেন্টের একটি ছোট সুচনা মাত্র। যারা এ আয়োজনে বিজয়ী হয়েছেন তাদেরকে আন্তারিক অভিনন্দন জানান এবং যারা বিজয়ী হতে পারেননি তাদেরকেও অংশগ্রহন করার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তারা আগামীতে হাসানাহ ফাউন্ডেশনের সব আয়োজনে নতুন উদ্যমে যুক্ত হওয়ার আহবান জানান। এছাড়া রাসুল (স:) এর আদর্শে প্রজম্মকে গড়ে তুলতে ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হাসানাহ ফাউন্ডেশন এ ধরনে আয়োজন সব সময় অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বক্তারা রাসুল (স:) এর জীবনী নিয়ে আলোচনায় বলেন অকথ্য নির্যাতন সীমাহীন জুলম ভয়াবহ দমন পীড়ন আর নির্লজ্জ ঠাট্টা-উপহাসে যখন পবিত্র ভুমি মক্কাতুর মুকাররমায় তাওহিদ ও রিসালতের বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর রুদ্ধ হয়ে এসেছিল, দাওয়াহর নিভু নিভু প্রদীপের দিকে যখন ধেয়ে আসছিল একের পর এক ঘুর্ণিজড় জলো”্ছাস- তখন রাসুল (স:) প্রিয় মাতৃভুমি ত্যাগ করার এক দুরদর্শী সিন্ধান্ত গ্রহন করেন। মরু আরবের প্রতিটি ঘরে ঘরে তাওহিদের অমীয় বানী পৌচে দেয়ার সুমহান উদ্দেশ্যে আকাশসম আগ্রহ ও উদ্দীপনা নিয়ে তিনি মক্কার দক্ষিন-পূর্বে অবস্থিত তায়েফ গমন করেন। দাওয়াহ-র কন্টকাকীর্ণ পথে পিছনের সমস্থ তিক্ত অভিজ্ঞতা ভুলে গিয়ে নব উদ্যমে সবকিছু আরম্ভ করার প্রয়াসে পূর্ববার সত্য ও সুন্দরের বানী পৌছে দেওয়ায় নিমগ্র হলেন। অমানবিক অত্যাচার, অকথ্য নির্যাতন ও বিদ্রæপের মুখে রাসুল (স:) ছিলেন অদম্য পাহাড়ের মত দৃঢ় অবিচল এবং স্বিতপ্র। বর্ষার অবিরাম বারিধারর ন্যায় তার হৃদয় থেকে উৎসাহিত হতো মানুষের জন্য ¯েœহ, মমতা ও ভালোবাসা। রাসুলের জীবন অপরিসীম ধৈর্য অনুপম ত্যাগ-তীতিক্ষা আর পর্বতপ্রমান দৃঢ়তার এক বিরল দৃষ্টান্ত। তিনি হাদিসে উল্যেখ করেছিলেন হয়তো আল্লাহ তাদের বংশধর থেকে এমন কাউকে সৃষ্টি করে দেবেন, যারা এক আল্লাহর ইবাদত করবে। কয়েক বছর যেতে না যেতেই সেই কথা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়িত হয়েছিল। সুতরাং দ্বীন প্রচারের এ পথে যত বাধা ও বিঘœই আসুক, প্রতিশোধ নয় বরং দয়া ও ক্ষমাই হলো সিরাত এর প্রকৃত শিক্ষা।
এছাড়া বক্তারা আরো বলেন মুসলিম উম্মাহ স্বরণকালের সবছেয়ে ভয়াবহ সময়টুকু পার করছে। নৈতিক অবক্ষয় শিক্ষা ও সাহিত্যে অনগ্রসরতা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পশ্চাদপসরণ অপসংস্কৃতির আধিপত্য ও অর্থনৈতিক অসমতা সর্বোপরি আধুনিকায়নের মোড়কে নিজেদের স্বর্কীয়তা ও আপন আতœমর্যাদারোধ ও খুইয়ে বসেছে। মতাদর্শিক বিভেদ, ইন্টারনেট কেন্দ্রিক জীবনযাপন এবং অবাধ ভোগবিলাসের অসুস্থ প্রতিযোগীতার ফলে তারা নিজেদের আত্বপরিচয় প্রায় ভূলতে বসেছে। কারনটা নৈতিক শিক্ষার অভাব। তাই এখনই সময় প্রিয় নবীর সুমহান আরশচুম্বী জীবনাদর্শ থেকে শিক্ষাগ্রহন করা। সুতরাং রাসুলের জীবনী অধ্যয়ন করে প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করতে পারলেই খুব সহজেই জাতিকে সার্বিক ক্ষতি ও সামগ্রিক অবক্ষয় থেকে মুক্তি দেয়া সম্ভব। ব্যক্তি জীবনে সিরাতচর্চার পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি পরতে সিরাতের দীপ্যমান আলোকবিতা ছড়িয়ে দেয়ার বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই হাসানাহ ফাউন্ডেশন এর পথ চলা।

