
মেধাবিধের তালিকায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পড়ার সুযোগ পান আফসানা করিম রাচি। বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মাসখানেক আগে পা রাখেন ক্যাম্পাসে। কিন্তু তাঁর স্বপ্নযাত্রা থেমে গেছে শুরুতেই। গত মঙ্গলবার ব্যাটারিচালিত রিকশার ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় বুধবার আট দফা দাবিতে ‘জাহাঙ্গীরনগর ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করেছেন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!আরো জানতে ক্লিক করুন: দেশে প্রথম আবিস্কার প্রকৌশল ড. এমদাদুল হকের হাইব্রিড গাড়ী
জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কেটিং বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের ছাত্রী আফসানা। তাঁর গ্রামের বাড়ি শেরপুরের নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের চকবরইগাছি গ্রামে। ছয় ভাইবোনের মধ্যে আফসানা সবার ছোট। তাঁর বাবা রেজাউল করিম পেশায় মৎস্য খামারি। তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকার গ্রিন রোডে বসবাস করতেন।
মেধাবী আফচানা করিম রাচেকে হারিয়ে কান্না থামছে না রেজাউল করিমের। তিনি বলেন, ‘মেয়েটাকে নিয়ে আমাদের কত স্বপ্ন ছিল। সে বলত, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শেষে বিসিএস দিয়ে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হয়ে দেশের সেবা করবে। তার সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না।
আরো জানতে ক্লিক করুন: ৫০ লাখ টাকা ঘুষ বানিজ্যে আইসিএমএইচ এর পরিচালক চেয়ারে অযোগ্য ডাঃ মুজিবুর রহমান
একসিডেন্টের সময় সেখানে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কলা ভবনের সামনের রাস্তার এক পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন আফসানা। এ সময় দ্রুতগামী একটি অটোরিকশা তাঁকে ধাক্কা দিলে সড়কে ছিটকে পড়ে মাথায় ও মুখে গুরুতর আঘাত পান। তাঁকে জাবির কেন্দ্রীয় মেডিকেল সেন্টারে নিলে চিকিৎসক সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে আফসানাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
মেধাবী আফসানার মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আট দাবিতে ‘জাহাঙ্গীরনগর ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করেছেন ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। সব ফটকে তালা ঝুলিয়ে তারা প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন।
৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো– ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাঠামোগত হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার করতে হবে; পর্যাপ্ত সড়কবাতি, ফুটপাত ও গতিরোধক স্থাপন করতে হবে এবং যানবাহনে গতি পরিমাপক রাখতে হবে; নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; মেডিকেল সেন্টারের জরুরি সেবার মানোন্নয়ন করতে হবে; নিবন্ধনহীন সব যানবাহন ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ করতে হবে; রিকশাচালকদের প্রশিক্ষণপূর্বক নিবন্ধন নিশ্চিত করতে হবে; অদক্ষ নিরাপত্তাকর্মীদের প্রত্যাহার এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল করতে হবে।
আরো জানতে ক্লিক করুন: আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ছয় শরিক দলকে চিঠি দিলেন বিএনপি
এদিকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী দুর্বার আদি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে আহত হলে ক্যাম্পাসের মেডিকেলে তাঁর যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। কিন্তু আফসানার ক্ষেত্রে সেটি হয়নি। এটাকে প্রশাসনের ব্যর্থতা হিসেবে দেখতে হবে।
এদিকে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আফসানার মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে ডেপুটি রেজিস্ট্রারসহ চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে । তারা হলেন– ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবদুর রহমান বাবুল, নিরাপত্তা কর্মকর্তা রাসেল মিয়া, সহকারী সুপারভাইজার আব্দুস সালাম ও ডিউটি গার্ড মনসুর রহমান প্রামাণিক।
শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান, নছিমন, করিমন, ভটভটি, মোটরসাইকেল ও লাইসেন্সবিহীন যানবাহন নিষিদ্ধ করে অভ্যন্তরীণ রুটে শাটল বাস সার্ভিস চালু করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, শাটল বাস চালু সাময়িক সমাধান। এতে যাতায়াতে ভোগান্তির সৃষ্টি হতে পারে।
জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের সব দাবি আমরা বিবেচনা করছি। দুর্ঘটনায় জড়িত রিকশাচালককে শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে আমরা পুলিশের সহযোগিতা নেব।
সুত্র মতে জানা যায় আফসানার গায়েবানা জানাজা গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) মাহফুজুর রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সোহেল আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রব, প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলমসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
গায়েবানা জানাজা শেষে উপাচার্য শিক্ষার্থী ও উপস্থিতদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের দেওয়া আট দফাকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।’ অনতিবিলম্বে এই দাবি দাওয়া মেনে অনিয়ন্ত্রিত জানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করবে প্রশাসন।

