Monday, June 27বাংলারবার্তা২১-banglarbarta21
Shadow

চট্টগ্রাম আরএনবির ওসি সালামতের দুর্ণিতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন অভিযানের নামে চাঁদাবাজি

আবারো চট্টগ্রাম রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনির (জেনারেল) ওসি সালামতের বিরুদ্ধে দুর্নিতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি চট্টগ্রাম জেনারেল নিরাপত্তা বাহিনির অফিসার ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত আছেন। বিগত দিনে তার বিরুদ্ধে দুর্নিতি ও ক্ষমতার অপব্যাবহরের বহু অভিযোগ উঠে এসেছে। তিনি তার দায়িত্বে অবহেলা ও বেশ কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মীকে ডিউটি ছাড়া টাকার বিনিময়ে প্রতি মাসে বেতন পাইয়ে দেন বলে জানা গেছে। খোজ নিয়ে জানা গেছে তিনি বিভিন্ন সময় চট্টগ্রাম বিভাগের বেশ কিছু রিক্সার গেরেজ, ষ্টিলের আলমারীর দোকান, ও বিভিন্ন ডক ইয়ার্ডে চট্টগ্রাম রেল ষ্টেশনের রেন্ট এ কার থেকে নেওয়া চট্ট-মেট্টো-গ-১১-৭৬৫৮ এই গাড়িটি ব্যবহার করে তাদের কাছে রেলবিট অবৈধ ভাবে আছে বলে অভিযান পরিচালনা করেন এবং তার সাথে রয়েছেন এস আই মো: জসিম ও সোর্স মো: কাশেম। সোর্সের মাধ্যমে দোকানের খরব নেন পরে তার বিরুদ্ধে সমন জারী করেন। আবার তিনি কোন আইনের তোয়াক্বা না করে কোন মামলার নিস্পত্বি ছাড়াই সেই সমন থেকে টাকার বিনিময়ে অভিযুক্তকে অব্যহতি দেন। খোজ খবর নিতে গেলে বহু জন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন। তিনি চট্টগ্রাম রেলওয়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকার পরও বাঁশখালী মগনাঘাট ডক ইয়ার্ডে, নাপোড়া চেয়ারম্যান ঘাটা রেজাউল করিমের ডক ইয়ার্ডে ও তার বরফ কলে এবং কালুরঘার জাফর সাহেবের ডক ইয়ার্ড ও চন্দনাইশের বেশ কিছু স্থানে অভিযান চালায়। এছাড়া তিনি চট্টগ্রাম সিটির মুরাদপুর, ষোলশহর, বহদ্দারহাট, বায়েজিদ, সীতাকুন্ড, পাহাড়তলী, অলংকার, ফৌজদারহাট, কদমতলী, মুগলটুলি, আগ্রাবাদ, বড়পোল, ইপিজেড সহ বিভিন্ন এলাকায় রিক্সার গেরেজ, ষ্টিলের আলমারীর দোকান, কামারের দোকান ও বিভিন্ন লোহার দোকানে অভিযানা চালায়। এছাড়া গত বছর বায়েজীদে একটি ষ্টিলমিলে অভিযান পরিচালনার সময় সরকারী কোন কাগজপত্র মন্ত্রনালয়ের কোন অর্ডার দেখাতে না পারায় ওসি সালামতকে কয়েক ঘন্টা আটকে রাখা হয়, পরে মোচলেকা দিয়ে সেখান থেকে ছাড়া পায়। তার বিরুদ্ধে ১১ই মার্চ-২০২২ দৈনিক সমকালে, ৪ই এপ্রিল দৈনিক নবারাজে অভিযোগ চাপা হলেও কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করে নাই। ওসি সালামত উধ্বতনদের নাকের ডগায় বসে এই সব দুর্নিতি ও আইনের অপব্যবহার করছেন।
বিভিন্ন জনের অভিযোগের ভিত্তিতে আমাদের কাছে উঠে এসেছে তার বিরুদ্ধে বিশাল দুর্নিতি, আইন অমান্য ও ক্ষমতার অপব্যবহার। মন্ত্রনালয় ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে দেদারছে তিনি এইসব কাছ করে যাচ্ছেন বলে যানা গেছে।
এছাড়া তিনি জামায়াত জোট সরকারের একজন এজেন্ডা বলেও জানা গেছে। তার মেসেনজারে সালামত পিন্টু নামে এক আইডিতে তিনি পুলিশের প্রতি বর্তমান সরকারের আস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকিতে যোগদান করে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য লিখে সরকারের ভাবমুত্তিকে ক্ষুন্ন করেছেন।
অভিযোগ কারীদের মধ্যে তিনি মনিরিয়া মেটাল চাঁদগাও, মালিক, কাজি মনির উদ্দিন, রেহানা মেটাল ইন্ডাষ্টিজ মোগলটুলি মালিক, মো: লিটন, এমজিএস ষ্টিল ইন্ডাষ্টিজ লিঃ উত্তর কাট্টলি মালিক, অশোক কুমার সাধুকে সমন জারীর নোটিশ দেন। এদের মধ্যে রেহানা মেটাল ইন্ডাষ্টিজকে তিনি গত ১৫/০১/২০২২ইং তারিখে সমন জারীর অভিযোগ থেকে অব্যহতি দেন যা বেআইনি। অব্যহতি পত্রে তার স্বাক্ষর রয়েছে।
খোজ নিয়ে জানা গেছে রেহানা মেটাল ইন্ডাষ্টিজ একটি ভ্যান মেশিন হোসেন ষ্টিল থেকে ক্যাশমেমো মূলে ক্রয় করেন। উক্ত মেশিনে আনুমানিক ০৬ বর্গফুটের ০২টি রেলবিট সংযুক্ত ছিল। কিন্তু উক্ত রেলবিট প্রতিস্থাপনের কোন বৈধ কাগজপত্র রেহানা মেটাল ইন্ডাষ্টিজ দেখাতে পারেনি বা হোসেন ষ্টিলের ক্যাশ উক্ত রেলবিটের কোন সরকারী কোন অনুমোদন নাই। তাহলে চট্টগ্রাম জেনারেল নিরাপত্তা বাহিনির অফিসার ইনচার্জ ওসি সালামত কিভাবে কোন মামলার নিস্পত্তি ছাড়া রেহানা মেটাল ইন্ডাষ্টিজকে সমন থেকে অব্যহতি দেন। অভিযোগ কারী বলেন মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তিনি রেহানা মেটাল ইন্ডাষ্টিজকে সমন থেকে অব্যহতি দেন।
এছাড়া অন্যান্যদের বিরুদ্ধে সমন জারী করলেও তাদের বিরুদ্ধে এই পর্যন্ত কোন মামলাও হয়নি এবং বিশাল অর্থ লেনদেন করে তাদের বিরুদ্ধে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনও করা হয়নি।
উল্লেখ্য যে, গত কয়েকদিন আগে রেহানা মেটাল ইন্ডাষ্টিজের মালিক মো: লিটন ওসি সালামতের বিরুদ্ধে মাননীয় রেলপথ মন্ত্রী বরাবর তার দুর্নিতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করেন।
এনআরবির সংশ্লিষ্ট একাধিক কমকর্তারা জানান রেলের কোন বিট যদি জমা হয় তাহলে তা আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে অকশনে দেওয়া হয়। অকশনে পাওয়া সেই বিট তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি বা হস্তান্তরের কোন সুযোগ নেই বরং তা ৯০ দিনের মধ্যেই গলিয়ে রূপ পরিবর্তন করতে হবে।
এছাড়া কোন ওয়াকশপে, গ্যারেজে বা কোন দোকানে বা ষ্টান্ডিজে কোন বিট পাওয়া গেলে রেলওয়ের সম্পাত্তির অবৈধ দখল উদ্ধার আইন ২০১৬ এর ৪,৫,ও ১০ নং ধারায় মামলা করার বিধান রয়েছে। আর এটি নিস্পত্তি একমাত্র আদালতের এখতেয়ারে চলে যায়।
কিন্তু চট্টগ্রাম জেনারেলের নিরাপত্তা বাহিনির অফিসার ইনচার্জ ওসি সালামত কিভাবে অবৈধভাবে রেলবিট পাওয়ার পরও তাদের বিরুদ্ধে সমন জারী করে আবার তিনিই তা নিস্পত্তি করেন। জানা গেছে তিনি মোটা অংকের ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে আইনকে নিজের বানিয়ে অবৈধভাবে রেলবিট ব্যবহাকারীদের বিরুদ্ধে নিজেই সমন জারী করেন এবং নিজেই তা প্রত্যাহার করেন। তার বিরুদদ্ধে কেউ কোন প্রতিবাদ করলে তাকে মামলার ভয় দেখিয়ে থামিয়ে দেন। তার এত ক্ষমতার খুটির জোর কোথায় তা দেখার বিষয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি সালামত বলেন কারো কাছে রেলবিট পাওয়া গেলে সমন জারী করার বিধান রয়েছে আর স¦পক্ষে কাগজপত্র দেখাতে পারলে তা প্রত্যাহারও করা যায়। কিন্তু তিনি অবৈধভাবে বিট পাওয়ার পরও তাদের বিরুদ্ধে কোন মামলা না করে তাদেরকে কিভাবে সমন থেকে অব্যহতি দেন তার কোন সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।
এই ব্যাপারে এনআরবির কমান্ডেন্ট শফিকুল ইসলাম বলেন যদি রেলের কোন অবৈধ বিট পাওয়া যায় তবে তার বিরুদ্ধে সমন জারী করা যাবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া না গেলে তাকে অভিযোগ থেকে অব্যহতিও দিতে পারেন।

কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনির অফিসার ইনচার্জ ওসি সালামতের অভিযানে রেলবিট পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সমন জারী করে আবার তা নিজের স্বাক্ষরে অপরাধিদের অব্যহতি দেন মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে। জানা গেছে তিনি এইসব করে এখন ফ্লাট ও গাড়ী বাড়ীর মালিক বনে গেছেন।
সরকারী এই কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় আনতে রেলের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রেলপথ মন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান ভুক্তভোগীরা।
আরো থাকছে তার অবৈধ সম্পদের বিবরণে——
Write to Journalist Abdul Kader

Leave a Reply

Your email address will not be published.