Thursday, June 25বাংলারবার্তা ২১-banglarbarta21
Shadow

ইরানের হুমকির মোকাবেলায় মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

বার্তা প্রতিনিধি: বিশ্বের অন্যতম মধ্যপ্রাচ্যে ‘ইরানের অব্যাহত হুমকি’ মোকাবেলায় ওই অঞ্চলে আরও সেনা, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

তবে দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যাট্রিক শানাহান একটি বিবৃতিতে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে দেড় হাজার সেনা পাঠানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামও পাঠানো হচ্ছে। কংগ্রেসকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। খবর বিবিসির

গত শুক্রবার দিনের প্রথম ভাগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এই সেনা মোতায়েন তুলনামূলকভাবে স্বল্প।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, দেশটি তেলের ট্যাংকারে হামলা চালাচ্ছে।

তবে এ মাসে ওমান উপসাগরে কয়েকটি তেলের জাহাজে রহস্যজনক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। এরপর ওই এলাকায় বিমানবাহী রণতরী এবং বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ক্যাপ্টেন শানাহান বলেন, ওই এলাকায় অতিরিক্ত সেনা চেয়ে কমান্ডারদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর বিষয়ে তিনি অনুমোদন দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন এই সেনারা ইরানিয়ান সেনাবাহিনী, আইআরজিসির অব্যাহত হুমকির মোকাবেলায় একটি রক্ষাকবচ হিসাবে কাজ করবে।

এদিকে আইআরজিসি হলো ইরানি রেভুল্যশনারি গার্ড কর্পস, যা সামরিক বাহিনীর একটি এলিট শাখা। এই বাহিনীকে গত মাসে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত মাসের মাঝামাঝিতে সৌদি আরবের কয়েকটি তেলের জাহাজ হামলার শিকার হয়— গেটি ইমেজেস

শানাহান আরো বলেন, প্রকৌশল দলের অংশ হিসাবে সেখানে অতিরিক্ত গোয়েন্দা ও নজরদারি সরঞ্জাম এবং বিমান মোতায়েন করা হবে। একটি ফাইটার এয়ারক্রাফট স্কোয়াড্রন ও প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমও পাঠানো হবে। এটা ভবিষ্যতের জন্য একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যাতে ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য যেকোনো হুমকির সম্ভাবনা কমিয়ে আনা যায়।’

কিন্তু এর আগে শুক্রবার সকালের দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘খুবই ছোট একটি বাহিনী সেখানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা চাই এবং অতিরিক্ত সেনা এই নিরাপত্তায় কাজ করবে।’ তবে এর ফলে উত্তেজনা আরো বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার মনে হয় না যে, ইরান একটি যুদ্ধ চায় এবং আমি নিশ্চিতভাবেই মনে করি, তারা আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চায় না। যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো নতুন এসব সরঞ্জাম ও কর্মীর মাধ্যমে ইরানের ওপর আরো গভীরভাবে নজর রাখা সম্ভব হবে।

এদেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা এই মাস থেকে নতুন করে শুরু হয়েছে, যখন ইরানের কাছ থেকে কেনাকাটা করা দেশগুলোকে দেয়া ছাড় তুলে নেয় ওয়াশিংটন। ইরানের তেল বিক্রি শূন্যতে নামিয়ে আনাই ওই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য, যা দেশটির সরকারের আয়ের প্রধান উৎস।

এদিকে ছয় জাতির সঙ্গে করা পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে গিয়ে গতবছর পুনরায় ইরানের ওপর অবরোধ আরোপ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান এখন ঘোষণা দিয়েছে, ওই চুক্তিতে দেয়া বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি তারাও স্থগিত করতে যাচ্ছে।

গত কিছুদিন আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে চারটি তেলে ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপরে সৌদি আরবের দুইটি তেল পাম্পিং স্টেশনে ড্রোন হামলা করে সাময়িকভাবে তেলের পাইপলাইন বন্ধ করে দেয় ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা, যাদের ইরান সমর্থন করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে ইরান অবশ্য এসব হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট স্টাফের পরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মাইকেল গিলডে এজন্য আইআরজিসিকে সরাসরি দায়ী করেন।
সূত্র: সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *