Saturday, July 4বাংলারবার্তা ২১-banglarbarta21
Shadow

সরকারী চাকুরীজিবীদের জন্য আবাসন প্রকল্প নির্মান করবে সরকার

বার্তা প্রতিনিধি: সরকারী ভাবে আবাসন প্রকল্প নিরসনকল্পে সরকারি কর্মকর্তা কর্মাচারীদের জন্য চট্টগ্রাম মহানগরীর অভিজাত আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানের ৩৬টি পরিত্যক্ত বাড়িতে এক হাজার কোটিরও বেশি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ২৪৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে কর্মরত বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্যই ফ্ল্যাট নির্মাণের এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের গণপূর্ত বিভাগ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ফ্ল্যাট নির্মাণে পরিবেশ রক্ষা এবং মানসম্মত বসবাস নিশ্চিত করারও তাগাদা দেয়া হয়েছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

গণপূর্ত বিভাগের পদস্থ একজন কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় তাদের আওতায় বর্তমানে ৩৩০টি সরকারি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে ১৬১টি সংরক্ষিত। আর মুক্তিযুদ্ধকালীন ও বিভিন্ন কারণে নানা সময়ে পরিত্যক্ত ঘোষিত বাড়ি রয়েছে ১৬৯টি। পরিত্যক্ত বাড়ির অনেকগুলোই ইতোমধ্যে বেহাত হয়েছে। পরিত্যক্ত বাড়িগুলোর মধ্যে ৩৬টি বাড়ি ভেঙে সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্তের আলোকে নগরীর খুলশী, নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি, মুরাদপুর, জামাল খান, আইচ ফ্যাক্টরি রোড, লালখান বাজার, আমবাগান, নন্দনকানন, সদরঘাট, আগ্রাবাদ, কোরবানিগঞ্জ, পাঠানটুলি এলাকার ৩৬টি পরিত্যক্ত বাড়িতে ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ৩৬টি বাড়ির মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাড়ি রয়েছে নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটিতে। অভিজাত এই আবাসিক এলাকার ১, ২ ও ৩ নম্বর সড়কের মোট ২০টি পরিত্যক্ত বাড়িকে এ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া অভিজাত আবাসিক এলাকা খুলশীতেও দুইটি বাড়ি রয়েছে। এই ৩৬টি বাড়ি ভেঙে নতুন করে ৮ তলা থেকে ১৯ তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণ করা হবে। মোট ২০টি জায়গার মধ্যে তিনটিতে ৮ তলা, ৪টিতে ৯ তলা, ১১টিতে ১০ তলা, ১০টিতে ১১ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ২টি করে বাড়ি হবে ১২, ১৩ ও ১৪ তলা করে এবং ১৮ ও ১৯ তলা ভবন হবে একটি করে। প্রকল্পের আওতায় সর্বমোট ১২৪৮টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ১২৫০ বর্গফুটের ৯৪টি, ১০০০ বর্গফুটের ৭৫৯টি, ৮৫০ বর্গফুটের ৩৯৫টি ফ্ল্যাট রয়েছে। তন্মধ্যে খুলশীর দুটি বাড়িতে ১২৫০ বর্গফুটের, নাসিরাবাদ হাউজিংয়ের প্রায় সবগুলো বাড়িতে ১০০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটগুলো নির্মিত হবে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পুরো প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ১৩১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে প্রকল্পটি একনেকের অনুমোদন লাভ করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছাড় পাওয়ার পর গত ডিসেম্বরে প্রকল্পটির ব্যাপারে মন্ত্রণালয় থেকে জিও (সরকারি আদেশ) ইস্যু করা হয়েছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে বাড়িগুলো ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

তারা আরো জানান, পরিত্যক্ত উক্ত ৩৬টি বাড়িতে বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার ১০০ জনের মতো কর্মকর্তা–কর্মচারী বসবাস করছেন। বাড়িগুলোর কয়েকটির অবস্থা খুবই নাজুক। কয়েকটি বাড়ি জরাজীর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোন কোন বাড়ির নীচতলা বর্ষায় পানিতে ডুবে যায়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রামে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের আবাসন সংকট প্রকট। মাত্র এক পঞ্চমাংশ আবাসন সুবিধা পান। বাকিদের অনেক বেশি ভাড়া দিয়ে বেসরকারি বাসায় ভাড়ায় থাকতে হয়। সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের আবাসন সংকট দূর করতেই পরিত্যক্ত বাড়িগুলোতে নতুন ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে।’ ১ হাজার ১৩২ কোটি টাকার এই প্রকল্পটির মাটি পরীক্ষা শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করে কর্মকর্তারা বলেন, স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা ভবনগুলোর নকশা তৈরির কাজ শুরু করেছেন। প্রত্যেকটি ভবন সবুজ প্রকৃতি ও পরিবেশবান্ধব করে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চারপাশে পর্যাপ্ত খালি জায়গা রাখা হচ্ছে। যাতে ফ্ল্যাটগুলোতে বসবাস করা পরিবারগুলোর শিশুরা খেলতে পারে। রাখা হচ্ছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের আবাসন তৈরির প্রকল্পটি এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় এবং সমন্বিত উদ্যোগ বলেও তারা জানিয়েছেন। সরকার প্রর্যায়ক্রমে সরকারী সব কর্মকর্তাদের জন্য আবাসন প্রকল্প নিরসনে কাজ করে যাবেন বলে জানান কর্মকর্তারা।
সূত্র: দৈনিক আজাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *