Saturday, July 4বাংলারবার্তা ২১-banglarbarta21
Shadow

প্রতি বছর বেকার হচ্ছে ৮ লক্ষ প্রচুর কর্মসংস্থানের অভার, অপরাধ বেড়ে যাওয়ার আশংক্ষা

বার্তা প্রতিনিধি: সরকার দেশে শিক্ষার হার বাড়ালেও কর্মসংস্থানের চাহিদা মেটাতে পারছেন না বলে জনমত দিয়েছেন দেশের বিশেষজ্ঞরা। অপরাধ বেড়ে যাওয়ার আশংক্ষা হতে পারে বলে মত দিয়েছেন অনেকে। দেশে যে হারে লোকসংখ্যা বাড়ছে সেহারে দেশে চাহিদা অনুযায়ী কর্মসংস্থান না হওয়ায় প্রতিবছর নতুন করে বেকার হচ্ছে আট লাখ কর্মক্ষম মানুষ। দেশের অর্থনীতিতে দুটি ভাবনার বিষয় হচ্ছে, উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও সে তুলনায় কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। অন্যটি হচ্ছে প্রবৃদ্ধির সুফল সর্বত্র সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না। ফলে সর্বোচ্চ ধনী ও সর্বনিম্ন দরিদ্রের মধ্যে মারাত্মক আয়বৈষম্য তৈরি হয়েছে। ৩০ বছর আগে যেখানে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ ধনীর আয় বেড়েছিল প্রায় ১৯ শতাংশ, সেখানে ২৫ বছর পর ২০১৫-১৬ সালে বৃদ্ধি পায় প্রায় ২৮ শতাংশ। একই সময়ে সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ দরিদ্র মানুষের আয় বৃদ্ধি ১ শতাংশ থেকে ০.২৩ শতাংশে নেমেছে। এই বৈষম্য দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক নয়।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

গতকাল রবিবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরা হয়েছে। ‘কাঙ্ক্ষিত সামাজিক উন্নয়নের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি : সমস্যা ও প্রাধান্য’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে সংলাপের আয়োজন করা হয়। এ সময় বক্তারা সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের তাগিদ দেন।

সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। সংস্থাটির চেয়ারম্যান ড. রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। আলোচক ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ডা. রশিদ ই মাহবুব। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। সংলাপ পরিচালনা করেন সংস্থাটির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান। সংলাপে ‘স্টেট অব দ্য বাংলাদেশ ইকোনমিক অ্যান্ড ন্যাশনাল ইলেকশন ২০১৮ প্রাইরেটস ফর ইলেকটোরাল ডিবেটস’ একটি বইয়ের মোড়কও উন্মোচন করা হয়েছে। আলোচনায় আরো অংশ নেন অধ্যাপক ড. রওনক জাহান, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. আতিক রহমান, সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা চৌধুরী মুফাদ আহমেদ প্রমুখ।

সিপিডির প্রতিবেদন তৈরিতে বিশ্বব্যাংকের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, প্রতিবছর ২১ লাখ কর্মক্ষম মানুষ কর্মের বাজারে প্রবেশ করছে। কিন্তু প্রতিবছর কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে প্রায় ১৩ লাখের। এ ক্ষেত্রে প্রতিবছর আট লাখ কর্মক্ষম মানুষ কাজ পায় না।

গত ২৫ বছরে ধনী ও দরিদ্রের আয়বৈষম্যের তথ্য দিয়ে বলা হয়, প্রবৃদ্ধির সুবিধা সমানভাবে বিতরণ না হওয়ায় বৈষম্য চরম আকার ধারণ করেছে। এ বিষয়ে সরকারের নজর দেওয়া প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য খাতের বিষয়ে বলা হয়েছে, হাসপাতালগুলোতে অবকাঠামোর উন্নয়ন হলেও এর মানসম্মত ব্যবহার হচ্ছে না। মানুষের ব্যক্তিপর্যায়ে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বেড়ে গেছে অনেক, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

শিক্ষা প্রাথমিক শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি, বয়স্ক শিক্ষার হার ও জেন্ডার বৈষম্য হ্রাস, উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি পেলেও মানসম্মত শিক্ষার ব্যাপক অভাব রয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম এ মান্নান বলেন, মানুষের আয় বৃদ্ধির কারণে স্বাস্থ্য খাতে ব্যক্তিপর্যায়ে ব্যয় বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বৈষম্য দূর করতে চাই।’

ড. রেহমান সোবহান বলেন, মানসম্মত শিক্ষা এখন অনেক বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য খাতেও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো দরকার।

শিক্ষা খাতে মানসম্মত শিক্ষা দেওয়া হয় না—এর জবাবে মহিবুল হাসান চৌধুরী প্রশ্ন করেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি না করলে এত প্রবৃদ্ধি হয় কিভাবে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ড. জাফরুল্লাহ বলেন, সুশাসন যেকোনো সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ডাক্তার, ডিসি ও অন্যান্য কর্মকর্তাকে হেদায়েত করার জন্য শিক্ষা দিতে হবে। ক্ষমতা বিকেন্দ্রণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পুরনো ১৭টি জেলাকে স্টেট হিসেবে ঘোষণা দিয়ে বেশ কিছু ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশ সরকার অচিরেই কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে নতুন নতুন প্রকল্প হতে নিতে শুরু করেছে। আর দেশের নীতিনির্ধারনীরা বলেছেন সরকারী বেসরকারী সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে। সূত্র: কালের কন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *