
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি যোগাযোগই ছিল কলিতার মূল চালিকা শক্তি। রাজনৈতিক লড়াইয়ে অর্থবল ও পেশিশক্তির মোকাবিলা করেও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন তিনি। শেষপর্যন্ত আউশগ্রামের মানুষের রায়ে জয় পান কলিতা।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!সেই কলিতা মাজি গৃহকর্মীই এখন অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানেই পশ্চিমবঙ্গের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন।
আরো পড়তে ক্লিক করুন: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী
২০২৬ সালের ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের অতিসাধারণ একটি পরিবারের গৃহবধূ কলিতা মাজি। একসময় সংসারের হাল ধরতে বাড়ি বাড়ি গৃহকর্মীর কাজ করেছেন। একমাত্র ছেলেকে মানুষ করতে খেটেছেন দিনরাত। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগের দিনও অন্যের বাড়িতে কাজ করেছেন। কিন্তু অবাককরা ব্যাপার হলো- এই অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানেই এখন তিনি ভারতের গুরুত্বপূর্ণ এই রাজ্যের একজন মন্ত্রী।
নির্বাচন পরবর্তী গত সোমবার (১ জুন) পশ্চিমবঙ্গের লোক ভবনে শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার বাকি ৩৫ জন সদস্য শপথ নেন। সেই তালিকায় ছিলেন আউশগ্রামের বিধায়ক কলিতা মাজিও। রাজ্যটির প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি।
আরো পড়তে ক্লিক করুন: Israeli Strikes in Gaza Kill 94 More Palestinians
আউশগ্রামের কলিতার স্বামী কলের মিস্ত্রি। তবে সংসারে বাড়তি কিছু উপার্জনের জন্য গৃহকর্মীর কাজ করতে হয়েছে কলিতাকে। এক পুত্র এবং স্বামী নিয়ে তার সংসার। এ বছরই তার পুত্র পার্থ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেয়। তবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা কলিতার অনেক দিনেরই। সেই সুযোগ চলে আসে বিজেপির হাত ধরে। বছর সাতেক রাজনীতি করার পরে ২০২১ সালে তাকে প্রথমবার বিধানসভা ভোটে প্রার্থী করে বিজেপি। সেবার কলিতার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তৃণমূলের অভেদানন্দ থান্ডার। ১১ হাজার ৮১৫ ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন কলিতা। এবারো তার ওপর ভরসা রেখেছিল বিজেপি। আউশগ্রাম থেকে টিকিট দেয়া হয় কলিতাকে।
বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি যোগাযোগই ছিল কলিতার মূল চালিকা শক্তি। রাজনৈতিক লড়াইয়ে অর্থবল ও পেশিশক্তির মোকাবিলা করেও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন তিনি। শেষপর্যন্ত আউশগ্রামের মানুষের রায়ে জয় পান কলিতা।
আরো পড়তে ক্লিক করুন: how to love us girl about magic tricks
এ প্রসঙ্গে কলিতা বলেন, ‘আমি গরিব পরিবারের একজন বধূ। তাই গরিব মানুষের কষ্ট বুঝি। বিধায়ক হয়েছি, এখন মন্ত্রীও হয়েছি, কিন্তু আমি সাধারণ মানুষ হিসেবেই থাকতে চাই। আমি আতিশয্য চাই না। আউশগ্রামের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।
কলিতার এই উত্থানে খুশি স্থানীয়রাও। পাত্র পরিবারে এক সময়ে পরিচারিকার কাজ করতেন কলিতা। সেই পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০১১ সাল থেকে তাদের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন কলিতা। প্লাটিলাল পাত্র বলেন, ‘আগে আমাকে কাকা বলত। পরে আমাদের মেয়ে মারা যাওয়ার পর আমাকে বাবা বলে ডাকা শুরু করে। সে শুধু মেয়েই নয়, আমাদের অভিভাবকের মতো। সে মন্ত্রী হওয়ায় আমরা খুবই খুশি। মানুষের পাশে থেকে ভালো কাজ করুক, এটাই চাই।
কলিতা মাজির মাধ্যমে এই প্রথম আউশগ্রাম বিধানসভার কোনো বিধায়ক পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন। সূত্র : আনন্দবাজার

