
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে গত শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বেপরোয়া গতির একটি বাস চলন্ত ট্রেনের সামনে উঠে পড়লে ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় আধা কিলোমিটার টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায়। এই ভয়াবহ সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধারকাজ
আরো জানতে পড়ুন:রামপালে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১৪
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী ‘মামুন পরিবহন’ নামের বাসটি রেললাইনে উঠে পড়লে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ওয়ান আপ’ ট্রেন সেটিকে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পর বাসটি দুমড়েমুচড়ে ট্রেনের সামনে আটকে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও অভিযোগ
আরো জানতে পড়ুন: বিএনপির মন্ত্রিসভায় স্থান পিল ৪৯ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রেলগেটের সিগন্যালম্যানের চরম অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া দুর্ঘটনার পর জরুরি সেবা ৯৯৯-এ বারবার ফোন দিলেও সঠিক সময়ে সাড়া না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা ও ট্রেনের যাত্রীরা।
বর্তমান পরিস্থিতি ও সরকারি পদক্ষেপ
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী এবং ৩ জন শিশু রয়েছে। আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সহায়তা: কুমিল্লা জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে।
আরো জানতে পড়ুন:বিরোধী দলের ওয়ার্কআউট কোনভাবেই কাম্যছিলনা জানিয়েছেন স্বরাষ্টমন্ত্রী
তদন্ত কমিটি: ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ের পক্ষ থেকে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
যোগাযোগ: দুর্ঘটনার প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা পর রেললাইন থেকে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রেনটি সরিয়ে নেওয়া হলে বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রামের সাথে সারাদেশের ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।

