
বার্তা প্রতিনিধি: স্বঘোষিত ধর্মগুরু রাম রহিমের কথিত পালিতকন্যা হানিপ্রীত ইনসান। রাষ্ট্রদ্রোহ ও রাম রহিমকে পালানোর সুযোগ করে দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ ২০১৭ সালের অক্টোবরের শুরুতে গ্রেফতার হয়েছিলেন ভারতের ধর্ষণের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত স্বঘোষিত ধর্মগুরু রাম রহিমের কথিত পালিতকন্যা হানিপ্রীত ইনসান।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!হানিপ্রীত ইনসানকে চণ্ডিগড়ের কাছে একটি মহাসড়ক থেকে তাকে গ্রেফতার করে হরিয়ানা রাজ্যের পুলিশ। এরপর ২ বছরের বেশি সময় কারাভোগের পর অবশেষ মুক্তি পেলেন হানিপ্রীত ইনসান।
তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, গত ৭ নভেম্বর হানিপ্রীত ইনসান কারাগার থেকে জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। হরিয়ানার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত হানিপ্রীতের জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন পাওয়ার পর হানিপ্রীতকে ওইদিন সন্ধ্যায় আম্বালার কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়।
জানা যায় গত বছর হানিপ্রীতের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও রাম রহিমকে পালানোর সুযোগ করে দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে আনা রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ সরিয়ে দেয়ার পর জামিনের আবেদন গ্রহণ করেন আদালত।
তবে গত বছরের ২৫ আগস্ট রাম রহিমকে যখন পঞ্চকুলার আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়, সেদিন তার সঙ্গে ছিলেন হানিপ্রীত। কিন্তু, রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করার পরেই পঞ্চকুলায় ব্যাপক সহিংসতা চালায় ডেরা সচ্চা সৌদার ভক্তেরা। সেই সহিংসতার ঘটনায় ৪০ জন নিহত ও আহত হয়েছিল প্রায় দুই শতাধিক মানুষ। অভিযোগ রয়েছে সেই তাণ্ডব হানিপ্রীতের নির্দেশেই হয়েছিল। মূলত ওই সহিংসতায় হানিপ্রীতের যোগসাজশ থাকার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সাথে রাস্টদ্রোহেরও অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে।
এদিকে হানিপ্রীতের বিরুদ্ধে দেয়া চার্জশিটে বলা হয়েছিল, হরিয়ানার পঞ্চকুলায় সহিংসতা ছড়ানোর ক্ষেত্রে হানিপ্রীতকে সাহায্য করেছিলেন ডেরার ম্যানেজমেন্ট কমিটির আরো ৪৫ জন। যদিও প্রথম থেকেই এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করে আসছেন হানিপ্রীত।
হানিপ্রীতকে গ্রেফতারের পর ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে তিনি বলেছিলেন, ‘ আমাকে যেভাবে উপস্থাপিত করা হয়েছে, তাতে এখন নিজেকেই নিজে প্রচণ্ড ভয় পাচ্ছি। চূড়ান্ত মানসিক চাপে রয়েছি। কী করব বুঝতে পারছি না। আমার ওপর আনিত সব অভিযোগ মিথ্যা।’
উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালে ভারতের কুখ্যাত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিং গ্রেফতারের পর বারবারই হানিপ্রীত ইনসানের নাম খবরের শিরোনামে আসে।
হানিপ্রীত ধর্ষক ধর্মগুরুর দত্তক মেয়ে ও রাম রহিমের পর ডেরা সচ্চা সৌদা প্রধান বলে খবর প্রচার হয়। এরইমধ্যে হানিপ্রীতের বিরুদ্ধে ভয়াবহ এক অভিযোগ আনেন তারই সাবেক স্বামী বিশ্বাস গুপ্ত।
হানিপ্রীতের সাবেক স্বামী বিশ্বাস গুপ্ত তিনি আদালতে অভিযোগ করেন, পালিত মেয়ে হানিপ্রীতের সঙ্গে নাকি শারীরিক সম্পর্ক ছিল ‘বাবা’ রাম রহিমের এবং সেই সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। এ খবরে তোলপাড় শুরু হয় ভারতজুড়ে।
এদিকে অন্যসব অভিযোগের মতো সাবেক স্বামীর সেই অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন হানিপ্রীত। তিনি জানিয়েছিলেন, বাবার সঙ্গে তার সম্পর্ক পূত ও পবিত্র। তার স্বামীর এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত মূলক বলে দাবি স্বঘোষিত ধর্মগুরু রাম রহিমের পালিত মেয়ে হানিপ্রীতের।

