Thursday, June 25বাংলারবার্তা ২১-banglarbarta21
Shadow

সব ক্রিকেটাররা নিরাপদেই ফিরে আসলেন দেশে তবে কাঁদালেন দেশবাসীকে

বার্তা প্রতিনিধি: বাংলাদেশ সময় তখন রাত ১১টা ৪৫ মিনিট। ভিআইপি লাউঞ্জ ধরে বেরিয়ে আসতেই এক তরুণকে দ্রুত কাছে টেনে নিলেন এক নারী। বুকে এমন করে জড়িয়ে ধরলেন যেন আর কখনও ছুটে না যায়। সে নারীর মুখে তখন মাত্র একটিই বাক্য- ‘আমার কলিজা, আমার কলিজা’ আয় আমার বুকে আয়।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

গতকাল শনিবার রাতে এ দৃশ্য সকলকে কাঁদিয়ে দেয় হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে । জাতীয় ক্রিকেট দলের উদ্বোধনী ব্যাটসমান সাদমান ইসলাম অনিককে এভাবেই বরণ করে নেন তার মা। এ সময় তার চোখে-মুখে ছিল উদ্বেগ অবসানের ফুলকি, স্বস্তির আলো।

বাংলাদেশ ক্রিকেটার শুধু অনিক নন- তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের মতো অন্য সদস্যদের স্বজনেরাও এদিন মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা প্রিয় মুখগুলোকে পেয়ে আপ্লুত হয়ে উঠেন। আর ক্রিকেটারও পান দেশের মাটিতে পা রাখার স্বস্তি। বুক ভরে নেন শ্বাস।

৩দিন আগে ঘটে যাওয়াা নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে শুক্রবার সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারান ৫০ জন। মসজিদে পৌঁছাতে একটু দেরি হওয়ায় ভাগ্যগুণে বেঁচে যান ক্রিকেটাররা। তবে চোখের সামনে দেখা বিভীষিকায় যে ক্ষত তৈরি হয় মনে- শনিবার যখন তারা বেরিয়ে আসছিলেন বিমানবন্দরের লাউঞ্জ থেকে, তখনও তার ছাপ তাদের চোখে-মুখে ছিল স্পষ্ট।

সেখানে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই দেশে ফেরার জন্য উদগ্রীব হয়ে ছিলেন ক্রিকেটাররা। অপেক্ষায় ছিলেন স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িত মানুষেরাও। সে অপেক্ষা শেষ হয় রাত ১০টা ৪০ মিনিটে, তামিম-মুশফিকদের বহনকারী সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের বিমানটি হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রানওয়ে স্পর্শ করার মধ্য দিয়ে। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রায় ১ ঘণ্টা পর ক্রিকেটাররা বেরিয়ে আসতে শুরু করেন।

এদেকে ভিআ্ইপি থেকে সবার আগে বেরিয়ে বাসার পথ ধরেন তামিম ইকবাল। ২ দিন তার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মানসিক ঝড়ের ছাপ স্পষ্ট ছিল চোখে-মুখে। শুক্রবারই চট্টগ্রাম থেকে মা নুসরাত ইকবাল চলে এসেছেন ঢাকায়। স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা সবার কাছে স্বামীর জন্য দোয়া চেয়েছেন। তবে বিমানবন্দরে পরিবারের কাউকে আসতে নিষেধ করে রেখেছিলেন তামিম। প্রিয় মানুষগুলোর সান্নিধ্য পেতে বিমানবন্দরে তাই এতটুকু কালক্ষেপণ করেননি তিনি।

ঐ ঘটনার পর থেকে প্রতিটি মুহূর্ত অস্বস্তিতে কাটিয়েছি। আমরা নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি। মুশফিক তো ফোন করেই কান্নাকাটি করেছে। ও-তো এমনিতেই নরম মনের মানুষ। তাই এমন পরিস্থিতে পড়ে ভেঙে পড়েছে। আজকে (শনিবার) দেখে একটু স্বাভাবিক মনে হয়েছে। আমাদের ছেলেদের কারও মনের অবস্থাই ভালো নয়। সবাইকে কাছে পেয়ে বুকে টেনে নিয়েছি। এ মুহূর্তে আমার চেয়ে সুখী কেউ নেই- একাধারে বলে যেতে থাকা এ মানুষটির নাম মাহবুব হামিদ। তিনি মুশফিকুর রহিমের বাবা।

তবে অল রাউন্ডার মুশফিকের কান্নারত মুখটা দেখে কেঁদেছে গোটা বাংলাদেশ। সেই মুশফিক দেশে ফিরে এক বাক্যে বললেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আপনারা দোয়া না করলে…। শেষ করতে পারলেন না মুশফিক। চোখের কোণে আবার জমে গেল পানি। সেটা সবার সামনে গলে পড়ার আগেই উঠে গেলেন সাদা প্রাডো গাড়িতে। হয়তো সেখানেই তা আনন্দাশ্রু হয়ে ঝরে পড়েছে স্বজনের বুকে।

ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ সংবাদ মাধ্যমের সামনে এসে বললেন, ‘আমরা যা দেখেছি সেটা অবর্ণনীয়। সবাই দোয়া করবেন মানসিকভাবে আমরা যে ধাক্কা খেয়েছি সেখান থেকে যেন দ্রুতই বের হয়ে আসতে পারি।

এদিকে মেহেদী হাসান মিরাজকে আগে থেকেই শক্ত মনের মানুষ ভাবা হয়। কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করেন। বিমানবন্দর থেকে এদিন সবার পরেই বের হলেন এ ডানহাতি অলরাউন্ডার। সাহসী সেই মিরাজের মুখেও আতঙ্কের অদৃশ্য ছাপ। থমকে থমকে বলেন, ‘হয়তো এত সহজে এ ঘটনা ভুলব না। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হবে। চেষ্টা করব দ্রুত ফিরে আসতে।

তবে এখন দেশবাসীরও চাওয়া যে, তারা দেশের মুক্ত বাতাস আর স্বজনের সান্নিধ্য দুঃসহ স্মৃতিগুলো দূরে ঠেলে দিক, দ্রুতই ক্রিকেটাররা ফিরে আসুক স্বরূপে। আমরা তাদের এই দুঃসহ যন্ত্রনা তাদের থেকে দুরে চলে যাক এই কামনা করি।
সূত্র: যুগান্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *