
বার্তা প্রতিনিধি: একাদশ জাতয়ি সংসদ নির্বাচন পরবর্তী বিএনপির নেতাকর্মীদের বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘তারা এখন কী করবে এটা খুঁজে পাচ্ছে না। দল থেকে পদত্যাগ করছে, অনেকেই করবে। দল থেকে সরে যেতে শুরু করেছে। এদিকে ঐক্যফ্রন্ট থেকে দুজন সংসদ সদস্যকে তারা শপথ নিতে বারণ করেছে। শেষ পর্যন্ত তাঁরা কি শুনবেন নেতৃত্বের বারণ? আমার তো মনে হয় না।’ তিনি গতকাল মঙ্গলবার সকালে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খানের সংসদে যোগদানের সম্ভাবনার কথা জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমার তাঁদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য—জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে, আমরা জনগণের হয়ে সংসদে কথা বলতে চাই। এ রকম মনোভাব তাঁদের মধ্যে আছে। এই অবস্থায় তাঁদের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত, সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর নাও হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপির পাঁচজনের বেলায় কী হবে সেটাও এই মুহূর্তে বলা যাবে না। মির্জা ফখরুল ইসলাম যে নির্বাচনী এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের চাপের মুখে কত দিন শপথ না নিয়ে থাকতে পারবেন এটাও ভেবে দেখতে হবে। অথবা কৌশলগত কারণে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে।’
বিএনপি অংশ না নিলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থিতার অভাব হবে বলে মনে হচ্ছে না। এটা তো জাতীয় নির্বাচন না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী অনেক থাকবে। তবে এখানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ একেবারেই কম। বিএনপি নির্বাচনে না আসলেও অনেক দলই নির্বাচন করবে। বিএনপি নির্বাচনে আসবে না এটা অফিশিয়ালি, দলীয়ভাবে তারা বলেছে। কিন্তু ঢাকা উত্তর দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে তাদের ওয়ার্ড পর্যায়ে অনেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। কাউন্সিলরে দলীয় প্রতীক নেই, তারা কিন্তু নির্বাচনে আছে। তারা একেবারে মাঠে নেই এ কথা বলা যাচ্ছে না। এখন উপজেলা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিতে পারে, দিলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আমাদের সব কিছুই মাথায় আছে, রাখতে হচ্ছে।’
বিএনপির আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আন্দোলন যাকে বলে, সেটা গণ-আন্দোলন। গণ-আন্দোলন করার মতো অনেক ইস্যু তাদের হাতে ছিল। যেমন ধরুন, খালেদা জিয়া যখন গ্রেপ্তার হয়ে জেলে গেলেন, তাঁর জেলে যাওয়ার মতো সেনসেটিভ ইস্যু তাদের দলের জন্য ছিল। এ ধরনের ইস্যুকে যারা কাজে লাগাতে পারেনি, ব্যর্থ হয়েছে, তারা নতুন করে কোন ইস্যুতে আন্দোলন করবে? তাদের হাতে তো কোনো ইস্যু নেই। আন্দোলনের এজেন্ডা হিসেবে যেটাকে বিএনপি পিক করতে পারে, নতুন সরকারের এ সময়ে এমন তো কোনো ইস্যু নেই।’ তিনি আরো বলেন, ‘তারা এই মুহূর্তে ছত্রভঙ্গ, এলোমেলো একটা দল। পথিক যেমন পথ হারায়, নির্বাচনে হেরে সেই দিশাহারা পথিকের মতো এখন বিএনপি। তারা কী করবে না করবে, সেটাই ভেবে পাচ্ছে না। কিংকর্তব্যবিমূঢ় এখন বিএনপি। তাদের দলের মধ্যে যখন মিটিং বসে তখন ভিন্ন ভিন্ন মত আমরা পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারি। তাদের এই মতবিরোধ এখন বিএনপি নিঃশেষের পথে।
সূত্র: কালের কন্ঠ

