
আওয়ামীলীগের লকডাউন চলাকালিন সময়ে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহের সামনে দুটি নীল রঙের ড্রামভর্তি জাতীয় পরিচয় পত্র থেকে সনাক্ত করা আশরাফুল হক (৪১) নামের একজনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!একটি ভ্যানগাড়ী বহন করে রেখে যাওয়া থেকে বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ৬টার দিকে ড্রাম দুটির ভেতর থেকে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম।
উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে একটি ভ্যানে দুজন ব্যক্তি এসে ড্রাম দুটি রাস্তার পাশে রেখে যায়। স্থানীয়রা এতটুকু বলতে পারছে। সন্ধ্যার দিকে যখন দুর্গন্ধ ছড়ায় তখন পুলিশকে খবর দিলে ড্রাম খুলে চালের মধ্য থেকে কালো পলিথিনে মোড়ানো খণ্ডিত মরদেহ বের করা হয়। আশেপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পরবর্তী সময়ে জড়িতদের শনাক্তে চেষ্টা করা হবে।
উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম আরো বলেন, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে মরদেহের পরিচয় শনাক্তে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিচ্ছে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মরদেহটি পাঠানো হয়েছে।
জাতীয় ঈদগাহের সামনে সরেজমিনে দেখা যায়, মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দুটি নীল রঙের ড্রাম থেকে মরদেহ বের করা হয়। ড্রামের মধ্যে চাল ছিল এবং কালো পলিথিন দিয়ে মোড়ানো ছিল মরদেহের খণ্ডিত অংশগুলো।
সেখানে উপস্থিত শাহাদাত হোসেন নামের একজন ড্রাম দুটি খুলে মরদেহ বের করেন। তিনি জানান, পুলিশ এসে ড্রাম খুলতে বললে আমি ড্রাম খুলি। এরপর দুটি ড্রাম খুলে একজনের একাধিক খণ্ডে খণ্ডিত মরদেহ বের করি।
শাহবাগ থানা পুলিশের ধারণা, দু-একদিন আগে হত্যার পর হত্যাকারীরা এখানে ড্রামে করে মরদেহ ফেলে গেছে।
জাতীয় পরিচয় পত্র থেকে সনাক্ত করা আশরাফুল হকের বাড়ি রংপুর জেলার বদরগঞ্জের গোপালপাড়ায়। তার বাবার নাম মো. আব্দুর রশিদ ও মায়ের নাম মোছা. এছরা খাতুন।
এদিকে আশরাফুলের বাড়ীতে খবর দেওয়া হয়েছে এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে তাকে তার পরিবারের কাছে লাশটি হন্তান্তর করবে বলে জানায় উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম।

