
আওয়ামী লীগের বিচার ও কাঠামোগত সংস্কার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না—এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত এক সমাবেশে এ কথা বলেন তারা।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!আরো জানতে পড়ুন : মার্কিন এনজিএসও সেবাদাতা স্টারলিংকের লাইসেন্স অনুমোদন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা
সমাবেশে এনসিপির ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানার নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে ‘গড়িমসি’ চলছে। অথচ গত বছরের ৫ আগস্ট জনগণ আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে বলেও দাবি করেন তারা।
দলটির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক তারিকুল ইসলাম বলেন, “আওয়ামী লীগ গণহত্যার মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রেখেছে। তাদের নিষিদ্ধ করার বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হওয়া লজ্জাজনক। হাইকোর্ট দেখিয়ে আমাদের আন্দোলন থামানো যাবে না।”
যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন বলেন, “আমরা খুনি হাসিনাকে বিদায় দিয়েছি। এখন এই বিজয় ধরে রাখা জরুরি। আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের যে কোনো চেষ্টা প্রতিহত করা হবে।”
আরো জানতে পড়ুন : নারায়ণগঞ্জ আদালতের প্রবেশমুখে আইনজীবীদের মারধরের শিকার হয়েছেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক
অন্য এক যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দীন মাহাদী বলেন, “হাসিনাকে দেশে এনে বিচার করে ফাঁসির মুখোমুখি করতে হবে। আর কোনো সংস্কার ছাড়া যদি নির্বাচন হয়, তা শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হবে।”
যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মুজাহিদ বলেন, “রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীরা হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
যুগ্ম সদস্য সচিব হুমায়রা নূর বলেন, “গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ জনগণের ওপর শোষণ চালিয়েছে। তারা বারবার ভোটাধিকার হরণ করেছে। এমন পরিস্থিতি যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য দলটিকে নিষিদ্ধ করতে হবে। বাংলাদেশ আর দিল্লির প্রেসক্রিপশনে চলবে না।”
আরো জানতে পড়ুন : বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার যৌথ অঙ্গীকার
এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মাহিন সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, “আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে বিন্দুমাত্র দোদুল্যমানতা গ্রহণযোগ্য নয়। মৌলিক সংস্কার ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না।”
এ সময় এনসিপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ আতাউল্লাহ। তিনি বলেন, “যারা এনসিপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে, তারা ধ্বংস হয়ে যাবে। একজন এনসিপি কর্মী জীবিত থাকতেও আওয়ামী লীগ এ দেশে রাজনীতি করতে পারবে না।”
পরে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সমাবেশে উপস্থিত হন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহসহ দলটির অন্যান্য শীর্ষ নেতারা।

